ইউক্রেন যুদ্ধ আরও তীব্র করার হুঙ্কার; ওয়াশিংটন-তেহরান সংঘাতের আবহে ক্যাস্পিয়ান সাগর দিয়ে প্রয়োজনীয় রসদ পাঠাচ্ছে মস্কো
ইউক্রেন সামরিক অভিযান আরও জোরদার ও তীব্র করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। একই সাথে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিপক্ষে সরাসরি অবস্থান নিয়ে তেহরান ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের প্রতি পূর্ণ সমর্থনের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে ১০ দেশের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাবিষয়ক জোট সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের (এসসিও) শীর্ষ সম্মেলন শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের মুখোমুখি হয়ে এসব অনড় অবস্থান ও হুঁশিয়ারি প্রকাশ করেন রুশ রাষ্ট্রপ্রধান।
ইরানকে পূর্ণ সামরিক ও গোয়েন্দা সহায়তা
বিশকেকে অনুষ্ঠিত এসসিও সম্মেলনের ফাঁকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন পুতিন। ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল কর্তৃক ইরানে যৌথ সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকেই মস্কো নিয়মিত গোয়েন্দা তথ্য ও সরঞ্জাম দিয়ে তেহরানকে সহায়তা করে আসছে।
রাশিয়ার সহায়তার মূল দিকসমূহ:
কৌশলগত গোয়েন্দা তথ্য: পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনা ও রণতরীর অবস্থান সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সরাসরি তেহরানকে দিচ্ছে রাশিয়া।
অস্ত্র ও যন্ত্রাংশ সরবরাহ: ক্যাস্পিয়ান সাগর পথ ব্যবহার করে ড্রোন ও সামরিক সরঞ্জাম তৈরির গুরুত্বপূর্ণ উপাদান ইরানে পাঠানো অব্যাহত রয়েছে।
পুতিনের আশ্বাস: যৌথ বৈঠকে ইরানের প্রেসিডেন্টকে পুতিন বলেন, “এই কঠিন সময়ে আপনাদের যে সহায়তা প্রয়োজন, তা দেওয়ার চেষ্টা করছি আমরা। প্রয়োজনীয় পণ্য ও সামরিক রসদ সরবরাহ করা হচ্ছে।”
শান্তি আলোচনা ও ‘দাঁতভাঙা জবাবের’ কড়া বার্তা
ইউক্রেন সংকট কাটাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের মাধ্যমে চলমান যোগাযোগের বিষয়ে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করার কথা জানান পুতিন। সম্প্রতি সিআইএ পরিচালক জন র্যাটক্লিফের মস্কো সফর নিয়েও কথা বলেন তিনি।
তবে পশ্চিমাদের সামরিক চাপ ও খাদ্যশৃঙ্খলে রাশিয়াকে খাটো করার চেষ্টা নিয়ে পুতিন কঠোর ভাষায় বলেন:
“সোভিয়েত আমলে পশ্চিমা দেশগুলোকে 'সাম্রাজ্যবাদের হাঙর' বলা হতো। যদি কেউ আমাদের গিলে খেতে বা গ্রাস করতে চায়, তবে তারা উপযুক্ত দাঁতভাঙা জবাব পাবে। এসব হাঙরের ক্ষুধা ও দাঁত যতই বাড়ুক না কেন, তা মোকাবিলায় রাশিয়া পুরোপুরি প্রস্তুত।”
| বিষয় | পুতিনের বক্তব্য ও কৌশল |
| মার্কিন দূতদের ভূমিকা | জ্যারেড কুশনার ও স্টিভ উইটকফ ট্রাম্পের আস্থাভাজন হওয়ায় তাঁদের সাথে কাজ করা সহজ। |
| গোয়েন্দা সংলাপ | স্নায়ুযুদ্ধের চরম মুহূর্তেও সিআইএ ও কেজিবি যোগাযোগ রেখেছিল, যা বর্তমান উত্তেজনায় স্থবির হয়ে পড়েছে। |
ইরান-মার্কিন সংঘাত নতুন করে উত্তপ্ত হওয়ার পাশাপাশি পুতিনের এই সামরিক হুঙ্কার বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতিতে বড় ধরনের উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে।