নিজের জীবন নিয়ে বায়োপিক বা জীবনীভিত্তিক চলচ্চিত্র নির্মাণের সম্ভাবনা সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়েছেন বলিউড সুপারস্টার সালমান খান। তাঁর মতে, নিজের জীবনের গল্প নিয়ে যদি সত্যিকারের কোনো বায়োপিক তৈরি করা হয়, তবে এমন সব অজানা সত্য ও তথ্য সামনে চলে আসবে—যাতে অনেক মানুষই ডুবে বা বিপদে পড়ে যাবে!
গতকাল শুক্রবার (৬ নভেম্বর) ভারতের মুম্বাইয়ে নিজের বহুল প্রতীক্ষিত আগামী সিনেমা ‘মাতৃভূমি: মে ওয়ার রেস্ট ইন পিস’ (Matrubhoomi: May War Rest in Peace)-এর অফিসিয়াল ট্রেলার প্রকাশ অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রসিকতা ও রহস্যের সুরে এই মন্তব্য করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে ৬০ বছর বয়সী এই মেগাস্টারকে এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, তাঁর বর্ণাঢ্য ও আলোচিত জীবন নিয়ে কখনো কোনো বায়োপিক নির্মাণের কথা তিনি ভেবেছেন কি না। প্রশ্নটি শোনামাত্রই হেসে ওঠেন সালমান এবং বায়োপিকের সম্ভাবনা সরাসরি নাকচ করে দিয়ে বলেন, “আমার জীবনে এমন কিছু নেই, যা দিয়ে একটি সিনেমা তৈরি করা যায়। তবে একই সঙ্গে বলতে হয়, সত্যিকারের বায়োপিক নির্মাণ করা হলে এমন অনেক কিছু সামনে আসবে, যাতে অনেক মানুষ ডুবে যাবে।” সালমানের এই রহস্যময় মন্তব্য উপস্থিত সাংবাদিকদের মাঝে তীব্র কৌতূহল ও জল্পনা তৈরি করেছে। অনেকেরই ধারণা, তাঁর ব্যক্তিগত ও কর্মজীবনের এমন অনেক গোপন অধ্যায় এখনো মানুষের অজানা, যা প্রকাশ্যে এলে বড় ধরনের চাঞ্চল্য সৃষ্টি হতে পারে।
‘মাতৃভূমি’ সিনেমা প্রসঙ্গে সালমান: ট্রেলার প্রকাশ অনুষ্ঠানে নিজের নতুন সিনেমাটির বিভিন্ন বিতর্ক ও পেছনের গল্প নিয়েও খোলামেলা কথা বলেছেন সালমান খান। সিনেমাটি নিয়ে অতীতে নানা রাজনৈতিক চাপ কিংবা চীনকে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপনের গুঞ্জন উঠলেও তা সম্পূর্ণ পরিষ্কার করে দিয়েছেন অভিনেতা। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, ছবিটি কখনোই কোনো নির্দিষ্ট দেশ বা চীনবিরোধী গল্প হিসেবে নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়নি। ছবির মূল প্রতিপাদ্য হলো—সংঘাতের পরিস্থিতিতে দুই দেশের সৈন্যরা কীভাবে মুখোমুখি হন এবং মানবিক বা সরাসরি সংঘর্ষের চিত্র কেমন হয়, সেটিই এখানে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। কোনো ধরনের রাজনৈতিক বা কূটনৈতিক প্রভাব বিস্তারের উদ্দেশ্যে এটি নির্মিত হয়নি।
এছাড়া চিত্রনাট্য পরিবর্তনের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে নির্মাতাদের ওপর কোনো চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল কি না, সেই খবরও জোরালোভাবে নাকচ করেন সালমান। তিনি জানান, কোনো দৃশ্য সেন্সর বোর্ড বা সরকারের চাপে বাদ দেওয়া হয়নি এবং সম্পূর্ণ পরিচ্ছন্নভাবেই ছবিটি সেন্সর বোর্ডের ছাড়পত্র লাভ করেছে। এজন্য তিনি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও কতৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেন।
মুক্তির তারিখ পেছানোর কারণ: সিনেমাটির মুক্তি বারবার পেছানোর নেপথ্যের কারণ ব্যাখ্যা করে সালমান বলেন, ছবির ভিজ্যুয়াল ইফেক্টস বা ভিএফএক্সের (VFX) কাজ একদম নিখুঁত ও মানসম্মত করতে নির্মাতারা বাড়তি সময় নিয়েছেন। দর্শকরা যেন বড় পর্দায় কোনো ত্রুটি না পান, সেটি নিশ্চিত করাই ছিল প্রধান লক্ষ্য। এর পাশাপাশি ছবির নায়িকা চিত্রাঙ্গদা সিংয়ের আকস্মিক চোট বা ইনজুরিও শুটিংয়ের শিডিউলে বড় প্রভাব ফেলেছিল। শুরুতে ৪৫ থেকে ৫০ দিনের মধ্যে শুটিং শেষ করার পরিকল্পনা থাকলেও চিত্রাঙ্গদার শারীরিক সুস্থতা ও ফিজিওথেরাপির জন্য দীর্ঘ সময় প্রয়োজন হয়। সব জল্পনা ও বিলম্বের অবসান ঘটিয়ে সালমান অবশেষে নিশ্চিত করেছেন যে, আগামী ৪ ডিসেম্বর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে বহুল প্রতীক্ষিত এই ছবি।