বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে যুক্ত হলো এক সোনালী ও গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়। দেশের চতুর্থ ব্যাটার হিসেবে টেস্ট ক্রিকেটে ডাবল সেঞ্চুরি (দ্বিশতক) অর্জনের অনন্য নজির গড়লেন তরুণ ও প্রতিভাবান ব্যাটার তাওহীদ হৃদয়। সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে চলমান সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টের তৃতীয় দিনে এই অবিশ্বাস্য ও ঐতিহাসিক কীর্তি গড়লেন তিনি।
এর আগে টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের হয়ে ডাবল সেঞ্চুরি করার এই গৌরব অর্জন করেছিলেন মাত্র তিনজন কিংবদন্তি ক্রিকেটার—মুশফিকুর রহিম, তামিম ইকবাল ও সাকিব আল হাসান। সেই অভিজাত ক্লাবের চতুর্থ সদস্য হিসেবে নিজের নাম লেখালেন তাওহীদ হৃদয়।
সিলেট টেস্টের তৃতীয় দিনের প্রথম সেশনে শুরুতেই বড় বিপদের মুখে পড়েছিল বাংলাদেশ দল। দলীয় মাত্র ১৮৪ রানে ৭টি মূল্যবান উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকা দল দ্রুত অলআউট হয়ে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছিল। ঠিক সেই মুহূর্তে দলের ত্রাতা হয়ে ত্রাতা হয়ে আবির্ভূত হন তাওহীদ হৃদয়। একপ্রান্ত আগলে রেখে অবিশ্বাস্য ও ধৈর্যশীল এক প্রতিরোধ গড়ে তোলেন তিনি। লাঞ্চ বিরতির আগেই নিজের টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি তুলে নেন এই ডানহাতি ব্যাটার।
এরপর খেলার দ্বিতীয় সেশনে অষ্টম উইকেটে স্পিনার তাইজুল ইসলামকে সঙ্গে নিয়ে গটেন এক অবিশ্বাস্য জুটি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলিং আক্রমণকে দাঁতভাঙা জবাব দিয়ে এই দুই ব্যাটার মিলে গড়েন ১৬৭ বলে অত্যন্ত মূল্যবান ১১৭ রানের এক জুটি। দলীয় স্কোর যখন অনেকটাই নিরাপদ আশ্রয়ের দিকে এগোচ্ছিল, ঠিক তখনই তাইজুল ইসলাম ব্যক্তিগতভাবে বিদায় নিলে এই জুটি ভাঙে।
তাইজুলের বিদায়ের পরও লড়াই থামাননি হৃদয়। এরপর পেসার তাসকিন আহমেদকে সঙ্গে নিয়ে অত্যন্ত ঠাণ্ডা মাথায় নিজের ঐতিহাসিক ডাবল সেঞ্চুরির মাইলফলক স্পর্শ করেন তিনি। দ্বিতীয় সেশনের খেলা শেষ হওয়ার পর বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসে সংগ্রহ দাঁড়ায় ৮ উইকেটে ৩৪০ রান। এর মাধ্যমে সফরকারী ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ইনিংসের স্কোরের তুলনায় মাত্র ১৬ রানে পিছিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ। খাদের কিনারা থেকে তাওহীদের এই লড়াকু ডাবল সেঞ্চুরি দলকে এক দুর্দান্ত অবস্থানে ফিরিয়ে এনেছে।