বাগেরহাটের হজরত খানজাহান আলীর (রা.) মাজার সংলগ্ন দীঘিতে কুমিরের মুখে একটি কুকুরের মর্মান্তিক মৃত্যু এবং সেই ঘটনার ভিডিও ধারণে সাধারণ মানুষের নির্লিপ্ততা নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী কনকচাঁপা। এই ঘটনায় তিনি মানুষকে পৃথিবীর সবচেয়ে ভয়ংকর প্রাণী হিসেবে অভিহিত করেছেন।
শনিবার (১১ এপ্রিল) রাতে নিজের ফেসবুক পেজে এই সংক্রান্ত একটি ছবি পোস্ট করে কনকচাঁপা লিখেছেন, “কুমির, কুকুর, হায়েনা, বাঘ-সিংহ কেউ না। এই পৃথিবীতে সবচেয়ে ভয়ংকর প্রাণী মানুষ।” তাঁর এই স্ট্যাটাসটি মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে পড়ে এবং সমাজের মানবিক মূল্যবোধের অবক্ষয় নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দেয়।
ঘটনাটি ঘটে গত বুধবার (৮ এপ্রিল) বিকেলে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, একটি অসুস্থ কুকুর কয়েকজনকে কামড় দেওয়ার পর স্থানীয়রা সেটিকে তাড়া করলে এটি দীঘির পানিতে পড়ে যায়। তখনই দীঘির কুমিরটি কুকুরটিকে ধরে পানির নিচে নিয়ে যায়। তবে এই করুণ দৃশ্য দেখে পাশে থাকা দর্শনার্থীদের কেউ কুকুরটিকে বাঁচানোর চেষ্টা না করে বরং মুঠোফোনে ভিডিও ধারণ করা নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন।
এই চরম অমানবিক আচরণ নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন কনকচাঁপা এবং সচেতন নাগরিক সমাজ। তাঁদের মতে, একটি প্রাণীর এই করুণ মৃত্যু যেমন বেদনাদায়ক, তার চেয়েও বেশি আশঙ্কাজনক হলো মানুষের মধ্যে দয়া ও সহমর্মিতার অভাব। কেবল ভিডিও ধারণের নেশায় একটি প্রাণীর মৃত্যু দেখে আনন্দ পাওয়া বা নির্বিকার থাকা আমাদের সমাজের নৈতিক পতনকেই নির্দেশ করে।