১২ অক্টোবর ২০২৬, সোমবার, ০১:৪৭:৪৪ অপরাহ্ন


সেমিফাইনালের মহারণের আগে মেসির আবেগঘন বার্তা
ক্রীড়া প্রতিবেদক | ট্রেন্ডনিউজবিডি
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৭-১৪ ১৫:৫৬:৩১
সেমিফাইনালের মহারণের আগে মেসির আবেগঘন বার্তা লিওনেল মেসি। ছবি: সংগৃহীত


২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের হাইভোল্টেজ সেমিফাইনাল ম্যাচকে সামনে রেখে নিজেদের প্রধান ঘাঁটি কানসাস সিটিকে বিদায় জানিয়েছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। শহরটিতে নিজেদের শেষ অনুশীলন পর্ব সম্পন্ন করার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কানসাস সিটির প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন দলের অধিনায়ক ও কিংবদন্তি লিওনেল মেসি। এখন আর্জেন্টিনা দলের পুরো মনোযোগ ও লক্ষ্য কেবল আটলান্টায় চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মহাগুরুত্বপূর্ণ সেমিফাইনাল লড়াইকে কেন্দ্র করে।

গত সোমবার কানসাস সিটিতে শেষ অনুশীলন সেশনের পর নিজের ভেরিফাইড ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে চারটি ছবি পোস্ট করেন লিওনেল মেসি। ছবির ক্যাপশনে তিনি লেখেন, ‘কানসাস সিটিতে আমাদের শেষ অনুশীলন! সবকিছুর জন্য ধন্যবাদ।’ সংক্ষিপ্ত হলেও এই আবেগঘন বার্তার মাধ্যমে গত কয়েক মাসে শহরটির সঙ্গে আর্জেন্টিনা দলের যে গভীর সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল, তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। মেসির পথ অনুসরণ করে দলের নির্ভরযোগ্য ডিফেন্ডার লিসান্দ্রো মার্টিনেজও কানসাস সিটির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে লিখেছেন, ‘ধন্যবাদ কানসাস! আমাদের যাত্রা এখনও অব্যাহত আছে।’

বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বের নিবিড় প্রস্তুতির অংশ হিসেবে গত ৩১ মার্চ কানসাস সিটিতে পৌঁছেছিল আর্জেন্টিনা ফুটবল দল। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে এই শহরটিই ছিল কোচ লিওনেল স্কালোনির দলের অনুশীলন ও প্রধান প্রস্তুতি কেন্দ্র। এখান থেকেই চলতি টুর্নামেন্টের একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ লড়াইয়ের রণকৌশল সাজিয়েছে আলবিসেলেস্তেরা। কানসাস অধ্যায়ের ইতি টেনে বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা এখন আটলান্টার পথে। আগামীকাল মার্সিডিজ-বেনজ স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। বহুল প্রতীক্ষিত এই ম্যাচের ফলই মূলত নির্ধারণ করবে মেসিদের পরবর্তী গন্তব্য।

এই হাইভোল্টেজ ম্যাচে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ফাইনালে উঠতে পারলে আর্জেন্টিনার পরবর্তী গন্তব্য হবে নিউইয়র্কের নিউজার্সি। আগামী রোববার (১৯ জুলাই) সেখানে অনুষ্ঠিত হবে ২০২৬ বিশ্বকাপের মহাফাইনাল, যেখানে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বশিরোপা জয়ের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। অন্যদিকে, সেমিফাইনালের মঞ্চে কোনো কারণে পরাজিত হলে দলটিকে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ খেলার জন্য যেতে হবে মায়ামিতে। মায়ামি শহরটির সঙ্গে মেসির একটি বিশেষ আত্মিক সম্পর্ক রয়েছে, কারণ ২০২৩ সালে ইন্টার মায়ামিতে যোগ দেওয়ার পর থেকে সপরিবারে ৩৯ বছর বয়সী এই ফুটবল কিংবদন্তি সেখানেই বসবাস করছেন। তবে আপাতত মায়ামিতে ফেরার কোনো চিন্তাই মাথায় আনছেন না মেসি। তাঁর লক্ষ্য একটাই—ইংল্যান্ডকে হারিয়ে নিউইয়র্কের ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করা। ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপে দিয়েগো ম্যারাডোনার নেতৃত্বে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে আর্জেন্টিনার যে ঐতিহাসিক স্মৃতি ও গৌরবের ইতিহাস তৈরি হয়েছিল, সেই ঐতিহ্য ও উত্তরাধিকারকে ধরে রেখে আরেকটি স্মরণীয় জয় উপহার দেওয়ার প্রত্যয় নিয়েই আটলান্টায় মাঠে নামছে মেসি, লিসান্দ্রো মার্টিনেজ ও তাঁদের সতীর্থরা।