১২ অক্টোবর ২০২৬, সোমবার, ০৩:৫০:৫০ অপরাহ্ন


বন্ধুদের নিয়ে চায়ের দোকানে এইচএসসি পরীক্ষার খাতা দেখছিলেন শিক্ষক; ৪০০ খাতা জব্দ!
অনলাইন ডেস্ক | ট্রেন্ডনিউজবিডি
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৮-০২ ১৫:২৯:৩৪
বন্ধুদের নিয়ে চায়ের দোকানে এইচএসসি পরীক্ষার খাতা দেখছিলেন শিক্ষক; ৪০০ খাতা জব্দ! ছবি: সংগৃহীত


শাবিপ্রবি গেটের চায়ের দোকানে আইরিন লিনজাসহ বন্ধুদের দিয়ে উত্তরপত্র মূল্যায়ন; সিলেট শিক্ষা বোর্ডের হাতে হাতেনাতে আটক প্রভাষক


      চায়ের দোকানে বসে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিতে দিতে উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়ন করছিলেন এক শিক্ষক। শুধু নিজেই নন, তাঁর বন্ধুরাও নির্বিচারে মূল্যায়নে অংশ নিচ্ছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এমন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে হাতেনাতে আটক করেছেন সিলেট মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তারা। একই সাথে তাঁর কাছে থাকা ৪০০টি এইচএসসি পরীক্ষার উত্তরপত্র (খাতা) জব্দ করা হয়েছে।

শনিবার (১ আগস্ট) রাত সাড়ে ১১টার দিকে সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) প্রধান ফটক-সংলগ্ন একটি চায়ের দোকানে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে।


আটক শিক্ষকের নাম ইকবাল হোসেন (সোহান)। তিনি সিলেটের মেট্রোসিটি উইমেন্স কলেজের প্রভাষক এবং সিলেট শিক্ষা বোর্ডের একজন নিবন্ধিত পরীক্ষক। ইকবাল শাবিপ্রবির বাংলা বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের প্রাক্তন শিক্ষার্থী।


আড্ডার ছলে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেত্রীকে নিয়ে খাতা মূল্যায়ন

প্রত্যক্ষদর্শী ও শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে শাবিপ্রবির মূল ফটকের কাছে ফজলুল হকের চায়ের দোকানে বসে এক বস্তা এইচএসসির উত্তরপত্র মূল্যায়ন করছিলেন ইকবাল। সেখানে তাঁর সাথে শাবিপ্রবি শাখার নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি আইরিন লিনজাসহ আরও দুজন বন্ধু খাতা কাটছিলেন। এর আগের দিন শুক্রবার রাতেও তাঁরা একই দোকানে বসে উত্তরপত্র মূল্যায়ন করেছেন বলে জানান চায়ের দোকানদার।


খবর পেয়ে সিলেট শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক বিলকিস ইয়াসমিনের নেতৃত্বে একটি টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁদের হাতেনাতে আটক করে।

অভিযুক্ত শিক্ষকের বন্ধু আইরিন লিনজা সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমার থেকে খাতা জব্দ করা হয়নি। আমি একজন প্রাক্তন শিক্ষার্থী হিসেবে ইকবালের সাথে ছিলাম, কারণ সে আমার ব্যাচমেট। এখানে খাতা দেখার বিষয়ে আমার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।”


বিভাগীয় ব্যবস্থা ও আইনি পদক্ষেপ

জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামসুল হাবিব জানান, ঘটনার পর অভিযুক্ত শিক্ষককে থানায় নিয়ে আসা হয়েছিল। পরবর্তীতে শিক্ষা বোর্ডের আবেদনের ভিত্তিতে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে তাঁকে শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়।


তথ্য বিবরণীবিস্তারিত
অভিযুক্ত শিক্ষকইকবাল হোসেন (সোহান), প্রভাষক, মেট্রোসিটি উইমেন্স কলেজ
ঘটনাস্থলশাবিপ্রবি প্রধান ফটক-সংলগ্ন চায়ের দোকান
জব্দকৃত খাতা৪০০টি এইচএসসি উত্তরপত্র
সহযোগীদের পরিচয়আইরিন লিনজা (সাবেক ছাত্রলীগ নেত্রী) ও অন্যান্য ব্যাচমেট
গৃহীত ব্যবস্থাসাধারণ ডায়েরি (জিডি) সম্পাদন ও বিভাগীয় শাস্তির প্রক্রিয়া

সিলেট শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক বিলকিস ইয়াসমিন বলেন, “খবর পাওয়ার সাথে সাথে রাতে চায়ের দোকানে অভিযান চালিয়ে খাতা দেখা অবস্থায় পরীক্ষককে আটক করা হয় এবং ৪০০টি খাতা জব্দ করা হয়েছে। তিনি এখন আমাদের হেফাজতে রয়েছেন। উত্তরপত্রের মতো স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে দায়িত্বহীনতা দেখানোর অপরাধে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”