১৭ অক্টোবর ২০২৬, শনিবার, ০৫:০১:১২ অপরাহ্ন


কৃষিকে লাভজনক খাতে পরিণত করতে হবে: রাষ্ট্রপতি
জাতীয় ডেস্ক | ট্রেন্ডনিউজবিডি
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-১০-১৫ ১৫:১৮:৪৫
কৃষিকে লাভজনক খাতে পরিণত করতে হবে: রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর I ছবি: সংগৃহীত


বারিতে মতবিনিময় সভায় রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর; কৃষিপণ্য সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বিজ্ঞানীদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির জোর তাগিদ

     বাংলাদেশের কৃষিখাতকে একটি লাভজনক ও টেকসই অর্থনীতিতে পরিণত করার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, কৃষিকাজ থেকে পর্যাপ্ত আয় না হওয়ায় শ্রমিকেরা এই পেশা ছেড়ে চলে যাচ্ছেন, যার ফলে মাঠপর্যায়ে তীব্র শ্রমিকসংকট দেখা দিচ্ছে। এ অবস্থা উত্তরণে কৃষিভিত্তিক আধুনিকায়ন ও অবকাঠামোগত সংস্কার জরুরি।

আজ বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকালে গাজীপুরে অবস্থিত বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) পরিদর্শনের সময় এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, "বাংলাদেশের কৃষি এখন আর লাভজনক কোনো খাত নয়। কৃষিকাজ করে পর্যাপ্ত আয় না হওয়ায় শ্রমিকরা এ পেশা ছেড়ে যাচ্ছেন। এ কারণে এখন মাঠে কাজ করার জন্য কৃষক পাওয়া যায় না। তাই এই খাতকে যেকোনো মূল্যে লাভজনক করতে হবে।"

উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের অসংগতি তুলে ধরে তিনি বলেন, "উত্তরাঞ্চলে প্রচুর আলু উৎপাদিত হলেও ওই অঞ্চলের কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পান না। অনেক সময় তারা আলু রাস্তায় ফেলে দিতে বাধ্য হন। অথচ পরবর্তী সময়ে বীজ আলুর দাম বেড়ে যায়। একইভাবে উৎপাদনস্থল থেকে ঢাকায় পৌঁছানোর পর আলুর দাম অনেক বেড়ে যায়। অন্যান্য সবজির ক্ষেত্রেও এ সমস্যা রয়েছে।" এ অবস্থা থেকে উত্তরণে আলুর পাশাপাশি টমেটোসহ অন্যান্য সবজি ও ফলমূল দীর্ঘদিন সংরক্ষণের উপযোগী কোল্ড স্টোরেজ, প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রযুক্তির সম্প্রসারণ এবং বেসরকারি খাতকে সম্পৃক্ত করার জোর দাবি জানান তিনি।

পেঁয়াজ উৎপাদনে কৃষি গবেষকদের সাফল্যের ভূয়সী প্রশংসা করে রাষ্ট্রপতি জানান, একসময় পেঁয়াজ আমদানিতে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় হলেও বর্তমানে স্বাবলম্বিতা অর্জনের বিষয়টি অত্যন্ত ইতিবাচক। তবে জমিতে অতিমাত্রায় রাসায়নিক সার ব্যবহারের ক্ষতিকর দিক নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি কৃষকদের সচেতন করার আহ্বান জানান।

কৃষি বিজ্ঞানীদের কাজের পরিবেশ ও সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির তাগিদ দিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, "কৃষিবিজ্ঞানীরা যথাযথ সুযোগ-সুবিধা না পেলে মেধাবী শিক্ষার্থীদের এ পেশায় আকৃষ্ট করা কঠিন হবে।" এ সময় তিনি কৃষিবিজ্ঞানীদের পেনশন-সংক্রান্ত বিধিমালা যুগোপযোগী ও পরিবর্তনের উদ্যোগ নিতে মঞ্চে উপস্থিত কৃষিমন্ত্রীর প্রতি সরাসরি আহ্বান জানান।

বক্তব্যে তিনি কৃষি উন্নয়নে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ঐতিহাসিক খাল খনন কর্মসূচি ও উচ্চফলনশীল ধানের বীজ সম্প্রসারণের অবদানের কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধে আত্মত্যাগকারী বীর মুক্তিযোদ্ধা, কৃষিবিদ এবং সাম্প্রতিক গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, গাজীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল করিম রনি, কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সেলিম খান, বারির মহাপরিচালক মো. মঞ্জুরুল কাদির এবং ব্রি-র মহাপরিচালক ড. মো. রফিকুল ইসলাম।

এর আগে সকালে রাষ্ট্রপতি বারি প্রাঙ্গণে পৌঁছালে বাংলাদেশ পুলিশের একটি সুসজ্জিত দল তাঁকে ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করে। পরে তিনি বারির জিন ব্যাংক, বিভিন্ন প্রদর্শনী স্টল পরিদর্শন করেন এবং উদ্ভিদ কৌলিসম্পদ কেন্দ্র (পিজিআরসি) প্রাঙ্গণে ‘বারি কাঁঠাল-৬’ জাতের একটি ফলদ চারা রোপণ করেন।