১২ অক্টোবর ২০২৬, সোমবার, ০৩:৫৬:২০ অপরাহ্ন


হরমুজ প্রণালীতে যুদ্ধজাহাজ পাঠাতে পারে দক্ষিণ কোরিয়া: ট্রাম্পের আহ্বানে সিউলের নীতি পর্যালোচনা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৩-১৫ ২২:০৯:১২
হরমুজ প্রণালীতে যুদ্ধজাহাজ পাঠাতে পারে দক্ষিণ কোরিয়া: ট্রাম্পের আহ্বানে সিউলের নীতি পর্যালোচনা হরমুজ প্রণালী


মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান-মার্কিন যুদ্ধের কারণে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ 'হরমুজ প্রণালী' কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে প্রণালীটি নিরাপদ রাখতে মিত্র দেশগুলোকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্পের এই বার্তার পর দক্ষিণ কোরিয়া সেখানে যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা শুরু করেছে।

ট্রাম্পের আহ্বান ও সিউলের প্রতিক্রিয়া

শনিবার (১৪ মার্চ) প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক পোস্টে বলেন: “হরমুজ প্রণালী খোলা এবং নিরাপদ রাখতে অনেক দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সাথে মিলে সেখানে যুদ্ধজাহাজ পাঠাবে। আমি আশা করি চীন, ফ্রান্স, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং যুক্তরাজ্য—যারা এই কৃত্রিম বাধার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে—তারা এই এলাকায় জাহাজ পাঠাবে যাতে এটি আর কোনো হুমকি হিসেবে না থাকে।”

ট্রাম্পের এই বার্তার পর দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের একজন কর্মকর্তা এএফপি-কে (AFP) জানান, সিউল বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। তিনি বলেন: “আমরা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মন্তব্য ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছি এবং যুক্তরাষ্ট্রের সাথে পরামর্শ করে বিষয়টি সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করা হবে। জ্বালানি পরিবহন রুটের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা বিভিন্ন সম্ভাব্য পদক্ষেপ নিয়ে সামগ্রিক পর্যালোচনা করছি।”

সিউলের কৌশলগত উভয়সংকট

দক্ষিণ কোরিয়া তার প্রয়োজনীয় জ্বালানি তেলের সিংহভাগ মধ্যপ্রাচ্য থেকে হরমুজ প্রণালী হয়ে আমদানি করে। ফলে এই রুটের নিরাপত্তা তাদের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত জরুরি। তবে সরাসরি যুদ্ধজাহাজ পাঠানো সিউলের জন্য একটি কঠিন সিদ্ধান্ত হতে পারে, কারণ:

  • ইরানের সাথে সম্পর্ক: দক্ষিণ কোরিয়ার অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ইরানে সক্রিয়, সরাসরি সামরিক অংশগ্রহণে সেই ব্যবসাগুলো ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

  • আইনি জটিলতা: যুদ্ধজাহাজ পাঠাতে দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় পরিষদের (National Assembly) অনুমোদনের প্রয়োজন হতে পারে, যা রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর।

  • সংশ্লিষ্ট ইউনিট: বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ওমান উপসাগরে আগে থেকেই মোতায়েন থাকা দক্ষিণ কোরিয়ার জলদস্যু বিরোধী 'চেওংহায়ে ইউনিট' (Cheonghae Unit)-এর কার্যপরিধি বাড়িয়ে হরমুজ প্রণালী পর্যন্ত বিস্তৃত করা হতে পারে।

জাপানের সতর্ক অবস্থান

ট্রাম্পের একই আহ্বানে জাপানও নাম থাকলেও টোকিও এই মুহূর্তে কিছুটা রক্ষণশীল। রবিবার জাপানের নীতি নির্ধারক মহলের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, এই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে টোকিও এখনো 'উচ্চ মাত্রার সতর্কতা' বজায় রেখেছে। জাপানের আইন অনুযায়ী, বিদেশের মাটিতে বা জলসীমায় সরাসরি সামরিক অংশগ্রহণ সাংবিধানিক বাধার মুখে পড়তে পারে।