১২ অক্টোবর ২০২৬, সোমবার, ০৪:৩৪:১৮ পূর্বাহ্ন


চাঁদাবাজি নয়, জমি নিয়ে বিরোধে সালমানের স্টুডিওতে হামলা: পুলিশ
জাতীয় ডেস্ক | ট্রেন্ডনিউজবিডি
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৯-২৭ ১৩:২০:১৯
চাঁদাবাজি নয়, জমি নিয়ে বিরোধে সালমানের স্টুডিওতে হামলা: পুলিশ সালমান মুক্তাদির I ছবি: সংগৃহীত


ইসিবি চত্বরে কনটেন্ট ক্রিয়েটরের স্টুডিওতে ভাঙচুরের ঘটনায় আটক ৩; এখনো কোনো মামলা দায়ের হয়নি

     রাজধানী ঢাকার ইসিবি চত্বরে জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের নিজস্ব স্টুডিওতে চাঁদা না দেওয়ায় রাতের আঁধারে সন্ত্রাসী হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের গুরুতর অভিযোগ উঠলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানাচ্ছে ভিন্ন তথ্য। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি মূলত পাশের জমির মালিকের সঙ্গে জমির দখল সংক্রান্ত পুরোনো বিরোধের জের ধরে ঘটেছে। এই হামলায় সালমান মুক্তাদিরের কনটেন্ট স্টুডিওটি সরাসরি কোনো সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য বা টার্গেট ছিল না। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।

এর আগে গত শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দিনগত রাত সাড়ে ১০টার দিকে রাজধানীর ইসিবি চত্বরের নিউ গিনি প্রপার্টিজে অবস্থিত সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওটিতে একদল সন্ত্রাসী অতর্কিত হামলা, ব্যাপক ভাঙচুর ও সরঞ্জামাদি লুটের ঘটনা ঘটায়। ঘটনা ঘটার পরপরই সালমান মুক্তাদির জানান, তার স্টুডিও থেকে কিছু দিন ধরে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা চাঁদা দাবি আসছিল। আর সেই চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোতেই পরিকল্পিতভাবে এই তাণ্ডব চালানো হয়েছে। হামলায় সেখানে থাকা মূল্যবান শুটিং যন্ত্রপাতি, কর্মীদের আইফোন, মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগ লুট করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন প্রতিষ্ঠানটির দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা।

এদিকে, রাতের আঁধারে চালানো এই সহিংস হামলার খবর পেয়ে দ্রুত পুলিশ পৌঁছায় এবং রাত ও রোববার সকালে যৌথ অভিযান চালিয়ে তিন হামলাকারীকে আটক করতে সক্ষম হয়। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক মামলা দায়ের করা হয়নি বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকালে দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে ডিএমপির যুগ্ম পুলিশ কমিশনার মো. মাহিদুল ইসলাম (ক্রাইম প্রিভেনশন, নর্থ) বলেন, "এখানে চাঁদাবাজির মতো কোনো প্রাথমিক আলামত বা ঘটনা ঘটেনি। মূলত নিউ গিনি প্রপার্টিজ লিমিটেডের সঙ্গে পাশের জমির মালিকের দীর্ঘদিনের স্থান সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে বহিরাগত একটি পক্ষ এসে এই অপ্রীতিকর হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছে। সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও তাদের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ছিল না।"

তিনি আরও স্পষ্ট করেন, "পুলিশ খবর পাওয়া মাত্রই ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ক্যান্টনমেন্ট থানার একটি টিম সেখানে পৌঁছে তাৎক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনাস্থল থেকে সরাসরি দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং পরবর্তীতে রাতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে আরেকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।"

হামলার পরপরই সালমান মুক্তাদির নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দুর্ঘটনাকবলিত স্টুডিওর এক আবেগঘন ভিডিও প্রকাশ করেন। ভিডিওতে দেখা যায়, স্টুডিওর ভেতরের দামী আসবাবপত্র, মনিটর, টেবিল, চেয়ার ও শুটিং সরঞ্জাম ভেঙে চুরমার হয়ে আছে এবং সেখানে কর্মরত বেশ কয়েকজন কর্মীকে কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা যায়। ভিডিওতে সালমান বলেন, "আমাদের এই স্টুডিওটি এখন পুরোপুরি ডেস্ট্রয়েড করে দেওয়া হয়েছে।" পুলিশ জানায়, ঘটনার পেছনের মূল আসামিদের খুঁজে বের করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।