১২ অক্টোবর ২০২৬, সোমবার, ০৫:২৮:৩৪ পূর্বাহ্ন


কৃষিকে স্মার্ট করতে একগুচ্ছ মহাপরিকল্পনা সরকারের
অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৪-২২ ১৬:৪৯:৩৬
কৃষিকে স্মার্ট করতে একগুচ্ছ মহাপরিকল্পনা সরকারের ছবি: সংগৃহীত


দেশের কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, কৃষিপণ্য বহুমুখীকরণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় ‘স্মার্ট কৃষি’ কার্যক্রম বাস্তবায়নে একগুচ্ছ মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। এই পরিকল্পনার অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হিসেবে ‘কৃষক কার্ড’ চালু করা হয়েছে, যার মাধ্যমে দেশের কৃষকরা সরাসরি ১০টি বিশেষ ডিজিটাল ও প্রাতিষ্ঠানিক সেবা লাভ করবেন।

বুধবার (২২ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে টাঙ্গাইল-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. রবিউল আউয়ালের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্যসমূহ উপস্থাপন করেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী দেশের কৃষিখাতকে আধুনিক ও লাভজনক করার লক্ষ্যে সরকারের ভবিষ্যৎ রূপরেখা তুলে ধরেন।

কৃষক কার্ডের মাধ্যমে ১০টি সেবা: প্রধানমন্ত্রী জানান, গত ১৪ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে ‘কৃষক কার্ড’-এর উদ্বোধন করেছেন। এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকদের সরাসরি যে ১০টি সেবা প্রদান করা হবে তা হলো: ১. ন্যায্যমূল্যে উন্নতমানের কৃষি উপকরণ বিতরণ। ২. সরকারি ভর্তুকি ও নগদ প্রণোদনা সরাসরি কৃষকের কাছে পৌঁছানো। ৩. স্বল্পমূল্যে আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি সরবরাহ। ৪. সুলভ ও ন্যায্যমূল্যে সেচ সুবিধা নিশ্চিতকরণ। ৫. সহজ শর্তে ও হয়রানিমুক্ত কৃষি ঋণ প্রাপ্তি। ৬. প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় কৃষি বিমা সুবিধা। ৭. মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমিয়ে সরাসরি সরকারের কাছে ন্যায্যমূল্যে পণ্য বিক্রির সুবিধা। ৮. নিয়মিত কৃষি বিষয়ক আধুনিক প্রশিক্ষণ প্রদান। ৯. ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক আবহাওয়া ও বাজারের সঠিক তথ্য প্রাপ্তি। ১০. ফসলের রোগ-বালাই দমনে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ গ্রহণ।

কৃষি উন্নয়নে গৃহীত ৭ দফা মহাপরিকল্পনা: সংসদে উত্থাপিত জবাবে প্রধানমন্ত্রী স্মার্ট কৃষি গড়তে সরকারের সাতটি প্রধান পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করেন:

  • যান্ত্রিকীকরণ ও সেচ উন্নয়ন: আধুনিক সেচ ব্যবস্থা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ইতিমধ্যে সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন শুরু হয়েছে। এছাড়াও ট্রাক্টর ও হারভেস্টারের মতো ভারী যন্ত্রপাতিতে ভর্তুকি দিয়ে তা কৃষকদের হাতের নাগালে আনা হচ্ছে।

  • ক্রপ জোনিং ও পতিত জমি উদ্ধার: মাটির গুণাগুণ ও এলাকার আবহাওয়া বুঝে উপযুক্ত ফসল চাষের জন্য ‘ক্রপ জোনিং’ পদ্ধতি চালু হয়েছে। সিলেট ও চরাঞ্চলের পতিত জমি চাষের আওতায় আনতে বিশেষ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।

  • পণ্যের বহুমুখীকরণ: শুধু ধান নির্ভর না থেকে সরকার ফল, সবজি, ডাল, তেলবীজ, মসলা ও ফুল চাষে কৃষকদের উৎসাহিত করছে।

  • বিশাল আর্থিক প্রণোদনা: চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কৃষি পুনর্বাসন খাতে ৭০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। ইতিমধ্যে ৪০১ কোটি ৬০ লাখ টাকা ছাড় করা হয়েছে, যার মাধ্যমে ২৫ লাখেরও বেশি প্রান্তিক কৃষক সরাসরি উপকৃত হয়েছেন।

  • সংরক্ষণ ও রপ্তানি সুবিধা: উত্তরাঞ্চলে একটি বিশেষ ‘কৃষিপণ্য রপ্তানি অঞ্চল’ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পচনশীল দ্রব্য সংরক্ষণে আধুনিক কোল্ড স্টোরেজ ও পেঁয়াজ সংরক্ষণে বিশেষ ‘এয়ার ফ্লো মেশিন’ বিতরণ করা হচ্ছে।

  • গবেষণা ও নতুন জাত: বারি (BARI), ব্রি (BRRI) ও বিনার (BINA) মাধ্যমে জলবায়ু সহনশীল এবং স্বল্প জীবনকালীন উচ্চ ফলনশীল জাত উদ্ভাবনে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

  • ক্লাইমেট স্মার্ট এগ্রিকালচার: লবণাক্ততা ও খরাপ্রবণ অঞ্চলে ভূ-গর্ভস্থ পানির অপচয় রোধে ‘এ ডব্লিউ ডি’ (AWD) পদ্ধতি এবং ‘খামারি অ্যাপ’-এর মতো ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকার কৃষিকে একটি টেকসই ও ব্যবসায়িক দিক থেকে লাভজনক খাতে রূপান্তর করতে বদ্ধপরিকর। তিনি আশা প্রকাশ করেন, পর্যায়ক্রমে দেশের সকল কৃষককে এই স্মার্ট কার্ডের আওতায় এনে কৃষিখাতে এক অভাবনীয় বিপ্লব ঘটানো সম্ভব হবে।