২৮ অক্টোবর ২০২৬, বুধবার, ১০:০৮:১১ অপরাহ্ন


‘স্বামীকে ভালোবাসি, তাতে সমস্যা কোথায়?’ কাদের ওপর চটলেন রাশমিকা
বিনোদন ডেস্ক | ট্রেন্ডনিউজবিডি
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-১০-২৭ ১৯:৪৭:৪৬
‘স্বামীকে ভালোবাসি, তাতে সমস্যা কোথায়?’ কাদের ওপর চটলেন রাশমিকা রাশমিকা মান্দানা ও বিজয় দেবেরাকোন্ডার I ছবি: সংগৃহীত


করণ জোহরের টক শো-তে দাম্পত্য ও ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে তুমুল বিতর্ক; সমালোচকদের কড়া জবাব দিয়ে মুখ খুললেন রাশমিকা মান্দানা ও বিজয় দেবেরাকোন্ডা

    জনপ্রিয় ভারতীয় তারকা জুটি রাশমিকা মান্দানা ও বিজয় দেবেরাকোন্ডার দাম্পত্যজীবন ও ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ নিয়ে বিতর্ক যেন থামছেই না। করণ জোহরের বহুল আলোচিত টক শো ‘কফি উইথ করণ’-এর নবম মৌসুমে এই তারকা দম্পতি একসঙ্গে হাজির হওয়ার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা-সমালোচনা। বিশেষ করে কে প্রথম বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন বা কতবার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল—সেসব প্রসঙ্গকে কেন্দ্র করে নেটদুনিয়ায় ট্রোল ও সমালোচনার মুখে পড়েন বিজয় দেবেরাকোন্ডা।

পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, ২৬ অক্টোবর (রোববার) নিজের অফিশিয়াল ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে দীর্ঘ ও স্পষ্ট ভাষায় একটি বিবৃতি দিয়ে মুখ খুলতে বাধ্য হন অভিনেত্রী রাশমিকা মান্দানা। সেখানে তিনি কেবল নিজের দাম্পত্যজীবন নিয়ে ছড়ানো ভুল ব্যাখ্যারই কড়া জবাব দেননি, বরং প্রশ্ন তুলেছেন নারীবাদ, ব্যক্তিগত স্বাধীনতা এবং অনলাইন ট্রোলিংয়ের নামে অন্যের জীবন নিয়ে বিচার করার মানসিকতার বিরুদ্ধেও। পাশাপাশি অভিনেতা বিজয় দেবেরাকোন্ডাও স্ত্রীর পাশে দাঁড়িয়ে কড়া ভাষায় সমালোচকদের উপযুক্ত জবাব দিয়েছেন।

 🎬 রাশমিকা-বিজয়ের ‘কফি উইথ করণ’ সাক্ষাৎকার বিতর্ক ও প্রতিবাদের মূল বিষয়সমূহ
 ───────────────────────────────────────────────────────────────────
  বিষয়               বিবরণ ও মূল তথ্য
 ───────────────────────────────────────────────────────────────────
  বিতর্কের সূত্রপাত    ‘কফি উইথ করণ’ সিজন ৯-এ বিয়ে ও প্রস্তাব নিয়ে খোলামেলা আলাপ
  প্রধান সমালোচনা      বিয়ের জন্য রাশমিকার বারবার তাগিদ দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে ট্রোলিং
  রাশমিকার জবাব       ভালোবাসার মানুষের পাশে থাকা অপরাধ নয়; ‘এটা নারীবাদ নয়, হয়রানি’
  বিজয়ের প্রতিক্রিয়া   “আমরা দুজনই ভীষণ সুখী; আমাদের সম্পর্ক নিয়ে বাইরের অনুমান অপ্রয়োজনীয়”
  অন্যান্য প্রসঙ্গ       পর্দায় নারীর শরীর উপস্থাপন ও অভিনয়শিল্পীর ব্যক্তিগত সম্মতি ও পেশাদারিত্ব
 ───────────────────────────────────────────────────────────────────

‘এক বছর ধরে বিয়ের কথা বলেছি’: বিতর্কের পেছনের গল্প

পুরো বিতর্কের মূল সূত্রপাত হয় ‘কফি উইথ করণ’-এর নবম মৌসুমের একটি বিশেষ পর্ব থেকে। অনুষ্ঠানের জনপ্রিয় সঞ্চালক করণ জোহর রাশমিকা ও বিজয়কে তাঁদের বিয়ের সিদ্ধান্ত এবং কে প্রথম বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন, সে বিষয়ে মজার ছলে প্রশ্ন করেন। খোলামেলা কথোপকথনে রাশমিকা জানান, বিমানবন্দরে বসে তিনিই প্রথম বিজয়কে বিয়ের কথা বলেছিলেন।

বিজয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, রাশমিকা যখন প্রথম বিয়ের প্রসঙ্গ তোলেন, তখন তিনি রসিকতা করে বলেছিলেন, তাঁকে রাজি করাতে হলে অন্তত ‘একশবার’ বিয়ের কথা বলতে হবে। রাশমিকার সরল স্বীকারোক্তি ছিল, এরপর তিনি প্রায় এক বছর ধরে নিয়মিত বিয়ের কথাটি তুলেছিলেন এবং শেষ পর্যন্ত তাঁরা দুজন পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতেই বিয়ের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন।

তবে অনুষ্ঠানটি সম্প্রচারিত হওয়ার পরেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় নানা জল্পনা ও সমালোচনা। নেটিজেনদের একাংশের প্রশ্ন ছিল, রাশমিকা তাঁকে এতবার বিয়ের কথা বলেছেন—এমন তথ্য প্রকাশ্যে আনার আদৌ কোনো প্রয়োজন ছিল কি না? সমালোচকদের দাবি, কথাটি মজা করে বলা হলেও এতে রাশমিকাকে এমন এক চরিত্রে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে, যিনি বিয়ের জন্য অতিরিক্ত আগ্রহী ছিলেন এবং বিজয় ছিলেন অনেকটা অনাগ্রহী। এমনকি বিজয়ের এই মন্তব্যকে ‘রেড ফ্ল্যাগ’ বা সম্পর্কের ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণের অসম্মানজনক প্রবণতা বলেও আখ্যা দেন কেউ কেউ।

‘বিষয়টা সংখ্যার নয়, ভালোবাসার’ —রাশমিকা

সকল সমালোচনার কড়া জবাব দিয়ে ২৬ অক্টোবর রাশমিকা ইনস্টাগ্রাম পোস্টে স্পষ্ট জানান, সাক্ষাৎকারের মূল আবেগ ও গভীরতা বাদ দিয়ে মানুষ কেবল বিয়ের প্রস্তাবের সংখ্যা এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময়কাল নিয়ে অনর্থক বিতর্ক তৈরি করছে। তিনি পরিষ্কার করে বলেন, তাঁদের সম্পর্কের ক্ষেত্রে কোনো জমকালো বা ধুমধামপূর্ণ প্রস্তাব কিংবা আনুষ্ঠানিক আয়োজন মুখ্য ছিল না। বিজয় চেয়েছিলেন, তাঁরা দুজন যেন একে অপরকে আরও গভীরভাবে বোঝার জন্য যথেষ্ট সময় পান। জীবনের কঠিন সুখ-দুঃখ, চাপ ও পেশাগত পরিবর্তনের মধ্যেও তাঁরা চিরকাল একসঙ্গে থাকতে চান কি না—সেই সিদ্ধান্তে পৌঁছানোই ছিল তাঁদের কাছে প্রধান বিষয়।

রাশমিকা লেখেন, তিনি নিজের চောင်း ও অনুভূতি সম্পর্কে শুরু থেকেই অত্যন্ত নিশ্চিত ছিলেন। অন্যদিকে বিজয় ভবিষ্যতের বাস্তব দিকগুলো ও দায়িত্ববোধ ভেবেচিন্তে এগোতে চেয়েছিলেন। তাঁদের দৃষ্টিভঙ্গির এই সামান্য পার্থক্য তাঁদের ভালোবাসার গভীরতায় কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলেনি; বরং তাঁরা একে অপরের পরিপূরক হিসেবে জীবন গড়েছেন।

বিয়ে নিয়ে নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট করে রাশমিকা লেখেন, “আমরা একে অপরকে জেনেশুনেই জীবনসঙ্গী হিসেবে বেছে নিয়েছি।” তাঁদের কাছে বিয়ের অর্থ হাঁটু গেড়ে আংটি পরানো বা বিশেষ কোনো বাহ্যিক আয়োজন নয়, বরং একসঙ্গে জীবনের পথচলা ও ভবিষ্যৎ গঠন করা।

‘আমার স্বামীকে ভালোবাসি, তাতে সমস্যা কোথায়?’

বিয়ে নিয়ে চলা অপ্রয়োজনীয় আলোচনার ব্যাখ্যা দেওয়ার পাশাপাশি স্বামীর প্রতি নিজের গভীর ভালোবাসার কথা অত্যন্ত অকপটে প্রকাশ করেছেন রাশমিকা। তিনি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে প্রশ্ন তুলেছেন, নিজের স্বামীকে গভীরভাবে ভালোবাসার মধ্যে অস্বাভাবিক বা লজ্জার কী থাকতে পারে?

রাশমিকা ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখেন, “হ্যাঁ, আমি আমার মানুষটিকে ভীষণ ভালোবাসি। তাতে সমস্যা কোথায়?”

অভিনেত্রীর মতে, যাঁকে মানুষ জীবনসঙ্গী হিসেবে বেছে নিচ্ছেন, তাঁর প্রেমে যদি পাগল না থাকা হয়, তবে সেই বিয়েরই বা আসল অর্থ কী? জীবনসঙ্গী অর্থ এমন একজন মানুষ, যিনি জীবনের সাধারণ দিনগুলো থেকে শুরু করে সমস্ত অসাধারণ মুহূর্তের সুহৃদ ও সঙ্গী হবেন। যার সঙ্গে আজীবন বন্ধুত্ব থাকবে, একসঙ্গে বয়স বাড়বে এবং একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে উঠবে।

তিনি জোর দিয়ে জানান, বিজয়কে জীবনসঙ্গী হিসেবে বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্ত যদি তাঁকে হাজারবারও নিতে বলা হয়, তবে তিনি হাজারবারই একই সিদ্ধান্ত নেবেন। তাঁর কাছে ‘একশবার’ বলার বিষয়টি কোনো বড় বা লজ্জার সংখ্যা নয়। এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, বাইরের মানুষের তৈরি করা কোনো ফ্রেমে বা ছাঁচে তাঁরা নিজেদের সম্পর্ককে মাপতে দেবেন না।

বিচ্ছেদের পরামর্শদাতাদের কড়া বার্তা

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই সাক্ষাৎকারের পর কিছু কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও নারী অধিকারকর্মী পরিচয়ে অনেকে রাশমিকাকে বিজয়ের সঙ্গে অবিলম্বে সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসার পরামর্শ দিয়ে নানা ভিডিও ও পোস্ট প্রকাশ করেন। তাঁদের কেউ কেউ নিজেদের এই মতামতকে ‘একজন নারীর প্রতি অন্য নারীর উদ্বিগ্ন ভালোবাসা’ হিসেবে জাহির করার চেষ্টা করেন।

এমন অযাচিত পরামর্শদাতাদের উদ্দেশে রাশমিকা সরাসরি বলেন, তাঁদের এই তথাকথিত উদ্বেগের বিষয়টি তিনি বুঝতে পারেন। কিন্তু যাঁরা আজ তাঁর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে প্রকাশ্যে নানা রকম রায় ও সিদ্ধান্ত দিচ্ছেন, তাঁরা তাঁর জীবনের কঠিন ও সংকটের দিনগুলোতে পাশে ছিলেন না। সেই দুর্দিনগুলোতে একমাত্র বিজয়ই তাঁর পাশে থেকে সর্বাত্মক সমর্থন জুগিয়েছিলেন।

রাশমিকা জানান, শারীরিক অসুস্থতা, মানসিক ব্যথা কিংবা চরম উদ্বেগের মুহূর্তে বিজয় যেভাবে তাঁর শক্তি হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন, সেই বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি নিজের জীবনের এই বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, তিনি এখন তাঁর জীবনের অন্যতম সেরা ও সুখী সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। ব্যক্তিগত জীবনের এই সুখ ও শান্তির প্রতিফলন তাঁর কাজের জগতেও স্পষ্টভাবে পড়ছে। ফলে বাইরের মানুষের অনুমান কিংবা সোশ্যাল মিডিয়ায় তৈরি হওয়া কাল্পনিক গল্পের ভিত্তিতে তাঁর সম্পর্কের মূল্যায়ন করার কোনো অধিকার কাউকে তিনি দেবেন না।

‘এটা নারীবাদ নয়, নারীবাদের নামে হয়রানি’

রাশমিকার দীর্ঘ বিবৃতির সবচেয়ে আলোচিত ও তাৎপর্যপূর্ণ অংশটি ছিল নারীবাদ নিয়ে তাঁর দ্ব্যর্থহীন মন্তব্য। তিনি কড়া ভাষায় লেখেন, তাঁর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে সমালোচকরা কথা বলতেই পারেন, কিন্তু তাঁকে না জেনে তাঁর পরিবারের সদস্যদের টেনে আনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তাঁর সাফ কথা—“এটা নারীবাদ নয়। এটা স্পষ্টতই নারীবাদের মোড়কে চরম হয়রানি।”

রাশমিকার মতে, প্রকৃত নারীবাদের মূল উদ্দেশ্য কখনোই অন্য কাউকে ছোট করা, অসম্মান করা কিংবা নারী-পুরুষের মধ্যে কৃত্রিম শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিষ্ঠা করা নয়। বরং একজন নারী হিসেবে নিজের জীবন তিনি কীভাবে চালাবেন, পেশাগত বা ব্যক্তিগত জীবনে কাকে নিজের জীবনসঙ্গী হিসেবে বেছে নেবেন—সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করাই হলো নারীবাদের অন্যতম মূল ভিত্তি।

বিজয়ের দ্ব্যর্থহীন প্রতিক্রিয়া, ‘আমরা দুজনই ভীষণ সুখী’

রাশমিকার এই সাহসী ও স্পষ্ট বক্তব্যের আগে-পরে অভিনেতা বিজয় দেবেরাকোন্ডাও নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষুরধার ও জোরালো প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। ইনস্টাগ্রামে রাশমিকার সঙ্গে বেশ কিছু সুন্দর ছবি শেয়ার করে বিজয় লেখেন, রাশমিকা তাঁর জীবনের সবচেয়ে বিশ্বস্ত বন্ধু, সহধর্মিনী এবং পৃথিবীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মানুষ। তাঁকে জীবনসঙ্গী হিসেবে বেছে নেওয়া তাঁর জীবনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও সঠিক সিদ্ধান্ত।

সমালোচকদের উদ্দেশে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বিজয় লেখেন, “যাঁরা আমাদের জীবন নিয়ে এত বেশি চিন্তিত, তাঁদের পরিষ্কার জানিয়ে রাখি—আমরা দুজনই ভীষণ সুখী।”

তিনি আরও কঠোর ভাষায় লেখেন, পরিস্থিতি যদি এমনও হয় যে তাঁকে ও রাশমিকাকে সারা পৃথিবীর মানুষের বিপক্ষে একাট্টা হয়ে দাঁড়াতে হবে, তবুও তাঁরা হাত ধরে একসঙ্গে থাকবেন। যাঁরা অন্যের সুখ ও ভালোবাসাকে সম্মান করতে জানেন, তাঁদের প্রতি ভালোবাসা জানিয়ে তিনি নিজের বক্তব্য শেষ করেন। তবে যাঁরা বিনা কারণে তাঁদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কুরুচিপূর্ণ ও অনাকাঙ্ক্ষিত মন্তব্য করছেন, তাঁদের কঠোর ভাষায় সতর্ক করেছেন এই অভিনেতা। বিজয়ের এই সাহসী অবস্থানকে তাঁর স্ত্রীর প্রতি অটুট সমর্থন হিসেবেই দেখছেন চলচ্চিত্র বোদ্ধারা।

পর্দায় নারীর শরীর ও শিল্পীর সম্মতির প্রসঙ্গ

‘কফি উইথ করণ’-এর ওই আলোচিত পর্বে কেবল ব্যক্তিগত বিয়ে বা সম্পর্ক নয়, বরং বিনোদন দুনিয়ায় নারীর উপস্থাপন, খোলামেলা পোশাক এবং অভিনয়শিল্পীদের ব্যক্তিগত সীমানা বা সম্মতির মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয় নিয়েও খোলামেলা কথা বলেছিলেন এই জুটি। জাহ্নবী কাপুর অভিনীত ‘পেদ্দি’ ছবিতে নারীর চরিত্রের খোলামেলা উপস্থাপন নিয়ে চলা বিতর্কের রেশ ধরে এই আলোচনা সামনে আসে।

সে সময় রাশমিকা অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানান, বাণিজ্যিক ও বড় বাজেটের ছবিতে গল্পের প্রয়োজনে কোনো কোনো চরিত্রে বিকিনি বা খোলামেলা পোশাক পরার প্রয়োজন হতেই পারে। কিন্তু সেই কাজের ক্ষেত্রেও শিল্পীর নিজের স্বস্তি, মানসিক সম্মতি এবং ব্যক্তিগত সীমারেখা পরিষ্কারভাবে জানানোর পূর্ণ অধিকার থাকা উচিত। তিনি নিজে শরীরের অতিরিক্ত প্রদর্শনে কখনোই স্বচ্ছন্দ নন এবং কোন ধরনের পোশাকে তিনি কাজ করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন, তা শুটিংয়ের আগেই সংশ্লিষ্ট পরিচালককে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন।

রাশমিকার মতে, তিনি সাধারণত যাঁদের সঙ্গে কাজ করেন, সেই পরিচালকরা তাঁর এই ব্যক্তিগত পছন্দকে সবসময় সম্মান করেন। তবে কোনো সিনেমার সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হওয়ার পর শুটিংয়ের সময় কোনো দৃশ্য বা পোশাক নিয়ে নতুন করে আপত্তি জানানো একজন শিল্পীর জন্য সবসময় সহজ কাজ নয়।

বিজয়ের বক্তব্যেও রাশমিকার এই সুর জোরালোভাবে প্রতিধ্বনিত হয়। তিনি বলেন, কোনো অভিনয়শিল্পী যদি কোনো নির্দিষ্ট দৃশ্য বা পোশাকে অস্বস্তি বোধ করেন এবং তা করতে না চান, তবে তাঁকে কখনোই এমনভাবে কোণঠাসা করা উচিত নয় যাতে তাঁর আচরণকে ‘অপেশাদার’ বলে মনে হয়। বরং শিল্পীর আপত্তির কথা নিঃসংকোচে শোনার মতো একটি পেশাদার ও নিরাপদ পরিবেশ নির্মাতাদেরই তৈরি করতে হবে।

রাশমিকা স্বীকার করেন, অনেক সময় পরিচালকের সামনে দাঁড়িয়ে মুখের ওপর সরাসরি ‘না’ বলার মতো প্রয়োজনীয় সাহস ও আত্মবিশ্বাস জোগাড় করা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। এমন সংকটজনক পরিস্থিতিতে তিনি প্রায়ই বিজয়ের সঙ্গে পরামর্শ করেন এবং বিজয় তাঁকে নিজের অস্বস্তির কথা সবার সামনে স্পষ্ট করে জানাতে সবসময় উৎসাহিত করেন।

তারকাদের এই খোলামেলা আলোচনা ও পরবর্তী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রতিক্রিয়া প্রমাণ করে যে, পর্দার গ্ল্যামার দুনিয়ার বাইরেও তাঁরা রক্ত-মাংসের মানুষ। নিজেদের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা, পারস্পরিক সম্মান এবং ভালোবাসার জায়গাটি রক্ষা করতে তাঁরা যে কোনো ধরনের নেতিবাচকতার বিরুদ্ধে বরাবরই সোচ্চার ও ঐক্যবদ্ধ থাকতে প্রস্তুত।