২৮ অক্টোবর ২০২৬, বুধবার, ০৬:০৩:৪৮ অপরাহ্ন


ইসরায়েলের নির্বাচনে নতুন সমীকরণ, ভোট গণনা এগোতেই বাড়ছে নেতানিয়াহুর চাপ!
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ট্রেন্ডনিউজবিডি
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-১০-২৮ ১৭:০৭:৩৬
ইসরায়েলের নির্বাচনে নতুন সমীকরণ, ভোট গণনা এগোতেই বাড়ছে নেতানিয়াহুর চাপ! ইসরায়েলের সাধারণ নির্বাচন I ছবি: সংগৃহীত


৭৬.৮% ব্যালট গণনায় লিকুদ জোটের আসন ৫৪; শক্তি বাড়াচ্ছে আরব রাজনৈতিক দলগুলো এবং আইজেনকটের দল 'ইয়াশার' নেমে এসেছে ৪৭ আসনে

     ইসরায়েলের বহুল আলোচিত সাধারণ নির্বাচনের ভোট গণনা যত এগোচ্ছে, দেশটির ১২০ আসনের পার্লামেন্ট নেসেটের সম্ভাব্য আসনবিন্যাস ও রাজনৈতিক সমীকরণ ততই জটিল হয়ে উঠছে। সর্বশেষ ঘোষিত আংশিক ফলাফলে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ডানপন্থী জোটের আসনসংখ্যা অপরিবর্তিত থাকলেও লক্ষণীয়ভাবে শক্তি বৃদ্ধি পেয়েছে দেশটির আরব রাজনৈতিক দলগুলোর। অন্যদিকে সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন জোটের আসনসংখ্যা কিছুটা হ্রাস পেয়ে নতুন চাপের মুখে পড়েছে।

ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির (CEC) প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বুধবার (২৮ অক্টোবর, ২০২৬) স্থানীয় সময় সকাল ১০টা ৫৮ মিনিট পর্যন্ত দেশের মোট ৭৬ দশমিক ৮ শতাংশ ভোটকেন্দ্রের ব্যালট গণনা সম্পন্ন হয়েছে। এ পর্যন্ত পাওয়া ভোটের ফলাফলের ভিত্তিতে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন লিকুদ পার্টির নির্বাচনী জোট সম্ভাব্য ৫৪টি আসন পেতে পারে। অন্যদিকে তাঁর অন্যতম প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ও সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন জোটের সম্ভাব্য আসনসংখ্যা ৪৮ থেকে কমে ৪৭-এ নেমে এসেছে।

ইসরায়েলের আইন অনুযায়ী নেসেটে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠন করতে হলে কোনো দল বা জোটকে অন্তত ৬১টি আসনে জয়ী হতে হয়। সেই হিসেবে বর্তমান আংশিক ফলাফলে চূড়ান্ত সংখ্যাগরিষ্ঠতার সীমা থেকে নেতানিয়াহুর জোট এখনো ৭টি আসন দূরে রয়েছে, যা তাঁকে পুনরায় ক্ষমতায় আসার ক্ষেত্রে বড় ধরনের জটিলতায় ফেলেছে।

দলভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি ২৭টি আসনে এগিয়ে থেকে একক বৃহত্তম দল হিসেবে নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছে। সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকটের নতুন রাজনৈতিক দল ‘ইয়াশার’ ২০টি আসন নিয়ে দ্বিতীয় বৃহত্তম দল হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। এ ছাড়া আরব রাজনৈতিক দলগুলোর জোট ‘জয়েস্ট লিস্ট’ ১৩টি এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেটের দল ‘বেয়াহাদ’ ১১টি আসন পেতে পারে বলে আংশিক ফলাফলে উঠে এসেছে।

ভোট গণনার শেষ ধাপে এসে আইজেনকটের দল ‘ইয়াশার’-এর সম্ভাব্য একটি আসন কমেছে এবং সেই আসনটি যুক্ত হয়েছে আরব জোট ‘জয়েন্ট লিস্ট’-এর ঝুলিতে। ফলে আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন জোটের মোট আসন সংখ্যা ৪৭-এ নেমে যায়, অন্যদিকে আরব দলগুলোর সম্মিলিত আসনসংখ্যা ১৮ থেকে বেড়ে ১৯-এ গিয়ে দাঁড়ায়। তবে এই পরিবর্তনের মধ্যেও নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোটের আসনসংখ্যা ৫৪-তেই স্থির রয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য বিবরণীতে জানানো হয়েছে, এখন পর্যন্ত দেশটির তিনটি রাজনৈতিক দল পার্লামেন্টে প্রবেশের জন্য প্রয়োজনীয় ন্যূনতম ভোটের থ্রেশহোল্ড (Threshold) বা ৩.২৫ শতাংশ ভোটের সীমা অতিক্রম করতে পারেনি। এর মধ্যে ‘রিজার্ভিস্টস’ পেয়েছে ২.৬ শতাংশ, ‘পিপল অব ইসরায়েল’ ১.৭ শতাংশ এবং ‘হারেদি পাবলিক’ মাত্র ০.২ শতাংশ ভোট পেয়েছে। ফলে এই দলগুলো নেসেটে কোনো আসন পাচ্ছে না।

তবে ইসরায়েলি নির্বাচন কমিশন জোর দিয়ে বলেছে যে, প্রকাশিত এই ফলাফল এখনো চূড়ান্ত নয়। বিশেষ করে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর সদস্য (আইডিএফ), কূটনৈতিক মিশন ও হাসপাতালে থাকা ভোটারদের ‘ডাবল-এনভেলাপ’ বা দ্বৈত খাম পদ্ধতিতে নেওয়া বিশেষ ভোটগুলোর গণনা এখনো বাকি। এসব ভোট গণনা শেষ হলে চূড়ান্ত আসনবিন্যাসে আরও বড় ধরনের রদবদল ঘটতে পারে।

আরব দলগুলোর শক্তি বৃদ্ধিতে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ

চলমান ভোট গণনায় আরব রাজনৈতিক দলগুলোর এই আসন বৃদ্ধি পরবর্তী সরকার গঠনের সমীকরণে অত্যন্ত নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে। আরব দলগুলোর জোট ‘জয়েন্ট লিস্ট’-এর চেয়ারম্যান ইউসেফ জাবারিন ইতোমধ্যে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, পার্লামেন্টে তাঁদের এই বাড়তি রাজনৈতিক শক্তিকে নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে হঠানোর কাজে পূর্ণাঙ্গভাবে ব্যবহার করা হবে। জাবারিন অভিযোগ তুলে বলেন, নেতানিয়াহু ও কট্টর ডানপন্থী নেতা ইতামার বেন-গভিরের বৈষম্যমূলক নীতির কারণে ইসরায়েলের বসবাসকারী আরব নাগরিকদের জীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। তাঁরা এই চরমপন্থী সরকারকে বিদায় করে বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়ার জন্য সব ধরনের আইনি ও রাজনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণে প্রস্তুত।

দক্ষিণ ইসরায়েলের বেদুইন অধ্যুষিত অঞ্চলগুলোতে ইসলামপন্থী দল ‘রা’আম’-এর অভূতপূর্ব সাফল্য আরব দলগুলোর শক্তি বৃদ্ধির মূল কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে রাহাত, কুসেইফ ও কাফর কাসিম শহরে রা’আম বিশাল ব্যবধানে জয়ী হয়ে তাঁদের আসনসংখ্যার ভিত্তি শক্ত করেছে।
সব মিলিয়ে, চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত ইসরায়েলের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী কে হতে যাচ্ছেন কিংবা কে সরকার গঠন করবেন—তা নিয়ে ঘোর অনিশ্চয়তা ও রাজনৈতিক নাটকীয়তা বজায় থাকছে।