১২ অক্টোবর ২০২৬, সোমবার, ০৫:৩০:৫২ পূর্বাহ্ন


দুবাই কি এখনো আগের মতো নিরাপদ? মধ্যপ্রাচ্যের অশান্ত পরিস্থিতিতে প্রত্যক্ষদর্শীরা যা বলছেন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৩-১৬ ১৭:১৭:১১
দুবাই কি এখনো আগের মতো নিরাপদ? মধ্যপ্রাচ্যের অশান্ত পরিস্থিতিতে প্রত্যক্ষদর্শীরা যা বলছেন দুবাই


মধ্যপ্রাচ্যের ‘মুক্তা’ হিসেবে পরিচিত সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই শহর। এক সময় এই শহরটি ছিল নিরাপদ আশ্রয়ের সমার্থক। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে ইরান-ইসরায়েল সংঘাত এবং লোহিত সাগরের অস্থিরতা যখন পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে যুদ্ধের কিনারায় ঠেলে দিয়েছে, তখন দুবাইয়ের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।

দুবাইয়ের বর্তমান রাজপথ: প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য

দুবাইয়ের সুউচ্চ বুর্জ খলিফা চত্বর বা ব্যস্ত জুমেইরাহ সমুদ্র সৈকতে পর্যটকদের ভিড় এখনো চোখে পড়ার মতো। তবে স্থানীয় প্রবাসী এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের সাথে কথা বলে পাওয়া যাচ্ছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।

দুবাই প্রবাসী বাংলাদেশি ব্যবসায়ী হারুনুর রশিদ জানান:

“বাহ্যিকভাবে সব স্বাভাবিক মনে হলেও মানুষের মধ্যে এক ধরনের চাপা আতঙ্ক কাজ করছে। বিশেষ করে আকাশে ড্রোন বা মিসাইল হামলার আশঙ্কার খবর যখন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে দেখি, তখন বুকটা কেঁপে ওঠে। তবে দুবাই প্রশাসনের কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা আমাদের এখনো ভরসা জোগাচ্ছে।”

অন্যদিকে, ব্রিটিশ পর্যটক সারাহ হ্যামিলটন বলেন:

“আমি এখানে এক সপ্তাহ ধরে আছি। ব্যক্তিগত নিরাপত্তার ক্ষেত্রে দুবাই এখনো পৃথিবীর সেরা। গভীর রাতেও একা হাঁটাচলা করা যায়। কিন্তু অঞ্চলের বর্তমান উত্তেজনা দেখে মনে হয় পরিস্থিতি যেকোনো সময় বদলে যেতে পারে।”

ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও দুবাইয়ের অবস্থান

মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান মানচিত্রে দুবাই এক কৌশলগত অবস্থানে রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, দুবাইয়ের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে প্রধান তিনটি চ্যালেঞ্জ এখন আলোচনার তুঙ্গে:

প্রক্সি ওয়ার ও ড্রোন হামলা: ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের বা আঞ্চলিক অন্যান্য গোষ্ঠীগুলোর ড্রোন হামলার আওতার মধ্যে দুবাইয়ের অবস্থান। যদিও আমিরাতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা (যেমন থাড এবং প্যাট্রিয়ট) অত্যন্ত শক্তিশালী, তবুও গত কয়েক বছরের বিক্ষিপ্ত হামলাগুলো প্রবাসীদের মনে দুশ্চিন্তা তৈরি করেছে।

অর্থনৈতিক অস্থিরতা: মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়লে দুবাইয়ের আকাশপথ এবং সমুদ্রপথের বাণিজ্য সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এর প্রভাব পড়বে আবাসন খাত এবং পর্যটন শিল্পে।

গোয়েন্দা নজরদারি: সংযুক্ত আরব আমিরাত সম্প্রতি তাদের গোয়েন্দা নজরদারি আরও কঠোর করেছে। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা রুখতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং ফেসিয়াল রিকগনিশন প্রযুক্তির ব্যবহার কয়েক গুণ বাড়ানো হয়েছে।

নিরাপত্তা নিশ্চিতে আমিরাত সরকারের পদক্ষেপ

দুবাই সরকার স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে, তারা এই অঞ্চলের কোনো সংঘাতে জড়াতে চায় না। তারা বরং মধ্যস্থতাকারী হিসেবে নিজেদের অবস্থান বজায় রাখতে ইচ্ছুক। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে আগের চেয়ে পুলিশি টহল বেড়েছে এবং পর্যটন এলাকাগুলোতে নজরদারি কয়েক গুণ জোরালো করা হয়েছে।

সার্বিক বিচারে দুবাই এখনো অপরাধমুক্ত বা ব্যক্তিগত নিরাপত্তার দিক থেকে অত্যন্ত নিরাপদ। তবে মধ্যপ্রাচ্যের বৃহৎ সংঘাতের ছায়া এই শহরের ভবিষ্যৎ স্থিতিশীলতার ওপর একটি বড় ‘প্রশ্নচিহ্ন’ ঝুলিয়ে দিয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, তারা বর্তমান জীবন নিয়ে সন্তুষ্ট হলেও আকাশ সীমায় হঠাৎ কোনো অঘটন ঘটবে না—এমন গ্যারান্টি কেউ দিতে পারছে না।

আঞ্চলিক ঝুঁকি: আল জাজিরা এবং রয়টার্স-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত বাড়লে তেল পরিবহন এবং বাণিজ্যিক রুটের ঝুঁকির কারণে দুবাই সরাসরি অর্থনৈতিক হুমকির মুখে পড়বে।