১২ অক্টোবর ২০২৬, সোমবার, ০৫:৩১:০৫ পূর্বাহ্ন


তরুণ শাহরুখ খানকেও সাহায্য করেছিলেন নানা পাটেকর
বিনোদন ডেস্ক | ট্রেন্ডনিউজবিডি
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-১০-১০ ২০:১৪:৩৭
তরুণ শাহরুখ খানকেও সাহায্য করেছিলেন নানা পাটেকর ছবি: সংগৃহীত


কিংবদন্তি নানা পাটেকরের প্রয়াণে পুরোনো সেই গ্রেপ্তার ও জামিনের স্মৃতিচারণ করলেন শাহরুখ খান; মেন্টর হিসেবে স্মরণ

       ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতের অকৃত্রিম ও প্রভাবশালী অভিনেতা নানা পাটেকরের আকস্মিক প্রয়াণে গোটা বলিউড অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তাঁর মৃত্যুর পর সহকর্মী ও ভক্তরা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছেন তাঁর অসামান্য অভিনয় ও ব্যক্তিত্বকে। এর মাঝেই নব্বইয়ের দশকের শুরুর দিকে তরুণ শাহরুখ খানকে এক আইনি বিপদে নানা পাটেকরের সহায়তার একটি পুরোনো ঘটনা নতুন করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ৭৫ বছর বয়সে গোয়ার নিজ বাসভবনে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন নানা পাটেকর। তাঁর প্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ করে শাহরুখ খান নানা পাটেকরকে তাঁর ‘পরামর্শদাতা, শিক্ষক, সমালোচক ও বন্ধু’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। অতীতের স্মৃতিচারণ করে শাহরুখ জানান, নানা পাটেকরের সঙ্গে প্রথম সাক্ষাতের সময় তিনি নার্ভাস হয়ে বারবার নিজের চুল ঠিক করছিলেন। বিষয়টি লক্ষ করে নানা তাঁর হাত ধরে সরিয়ে দিয়ে কড়া অথচ স্নেহের সুরে বলেছিলেন, ‘নায়কের মতো চুল সাজিও না, তুমি একজন অভিনেতা।’

যে ঘটনায় গ্রেপ্তার হয়েছিলেন শাহরুখ: ২০১২ সালের এক সাক্ষাৎকারে নব্বইয়ের দশকের শুরুর দিকের একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনার কথা প্রকাশ করেছিলেন শাহরুখ। গৌরী খানের সঙ্গে বিয়ের ঠিক পরপরই একটি ম্যাগাজিনে তাঁর এক সহঅভিনেত্রীর সঙ্গে সম্পর্কের গুঞ্জন নিয়ে মানহানিকর প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এতে গৌরী ভেঙে পড়লে ক্ষুব্ধ শাহরুখ সরাসরি সেই সাংবাদিকের মুখোমুখি হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। ফোন করার পর পরিস্থিতি জটিল হলে তিনি সোজা সেই সাংবাদিকের বাড়িতে চলে যান এবং সেখানে সেনা কর্মকর্তা শ্বশুরের দেওয়া একটি কুকরি নিয়ে গিয়ে সাংবাদিকের মা-বাবার সামনে এক তরুণকে হুমকি দেন। পরবর্তীতে নিজের সেই হটকারী আচরণকে ভুল বলে স্বীকারও করেছিলেন শাহরুখ।

ঘটনাটি সেখানেই শেষ ভেবেছিলেন তরুণ শাহরুখ। কিন্তু পরের দিন সন্ধ্যায় ‘কাভি হাঁ, কাভি না’ ছবির শুটিং সেটে পুলিশ হাজির হয়। প্রথমে ভক্তের মতো ছবি তুললেও পরে তাঁকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। জামিন না পেয়ে লকআপ থেকে ফোন করার একমাত্র সুযোগ পেয়েও তিনি পরিবার বা আইনজীবীকে না ডেকে সোজা সেই সাংবাদিককেই ফোন করে আবারও হুমকি দেন! পরে থানায় আঙুলের ছাপ দেওয়ার সময় নিজের বোকামি বুঝতে পেরে চরম বিব্রতবোধ করেন তিনি এবং গৌরীর মানসিক অবস্থা তাঁকে ভীষণ নাড়া দেয়। ওই ঘটনাই তাঁর জীবনে বড় শিক্ষা হয়ে এসেছিল।

যেভাবে পাশে দাঁড়িয়েছিলেন নানা পাটেকর: বিপদ ও আইনি জটিলতার সেই কঠিন দিনে তরুণ শাহরুখের পাশে ত্রাতা হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন নানা পাটেকর। জামিনের স্মৃতিচারণ করে শাহরুখ বলেছিলেন, ‘শেষ পর্যন্ত নানা পাটেকরই আমাকে জেল থেকে বের হতে সাহায্য করেছিলেন। তিনি অত্যন্ত ভালো ব্যবহার করেছিলেন আমার সঙ্গে।’ নব্বইয়ের দশকের শুরুতে ‘রাজু বান গয়া জেন্টলম্যান’ (১৯৯২) সিনেমায় একসঙ্গে কাজ করার সুবাদে তৈরি হওয়া সেই সখ্য ও বিপদের দিনের সাহায্যের কথা আজ নানা পাটেকরের প্রয়াণে ভারী হৃদয়ে স্মরণ করলেন বলিউড বাদশাহ।