০৮ নভেম্বর ২০২৬, রবিবার, ১২:৩৪:০৩ পূর্বাহ্ন


স্পর্শের অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার সাংবাদিক রবিউল হোসেনের; পাল্টা পরীমনির বিরুদ্ধে ফোন কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ!
বিনোদন ডেস্ক | ট্রেন্ডনিউজবিডি
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-১১-০৭ ১৮:২৬:৩৫
স্পর্শের অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার সাংবাদিক রবিউল হোসেনের; পাল্টা পরীমনির বিরুদ্ধে ফোন কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ! ছবি: সংগৃহীত


আদালত প্রাঙ্গণে হট্টগোল ও হাতাহাতির ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ডিজিটাল রিপোর্টার্স ফোরাম (ডিআরএফ)

       ঢাকার আদালত প্রাঙ্গণে চিত্রনায়িকা পরীমনিকে শারীরিকভাবে স্পর্শ করার যে অভিযোগ উঠেছে, তা সরাসরি ও জোরালোভাবে অস্বীকার করেছেন দৈনিক সমকালের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার রবিউল হোসাইন। উল্টো পরীমনির বিরুদ্ধেই তাঁর মুঠোফোন কেড়ে নেওয়া এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করার গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন এই গণমাধ্যমকর্মী। গত বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) আদালত প্রাঙ্গণে ঘটে যাওয়া এই অনভিপ্রেত ঘটনাকে কেন্দ্র করে বর্তমানে গণমাধ্যম ও নেটদুনিয়ায় তীব্র আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

ঘটনার পেছনের পটভূমি: ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের দায়ের করা একটি মামলায় আত্মসমর্পণ করে জামিন নিতে গত বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত প্রাঙ্গণে হাজির হয়েছিলেন চিত্রনায়িকা পরীমনি। ২০২১ সালে সাভারের বোট ক্লাবের একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই মামলার বিচারকার্য চলছে। আদালতের কার্যক্রমে অংশ নিতে পরীমনির আসার খবর পেয়ে সেখানে উপস্থিত হন বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিক ও চিত্রগ্রাহকেরা। বেলা ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে পরীমনি গাড়ি থেকে নেমে এজলাসের দিকে যাওয়ার সময় ছবি ও ভিডিও ধারণকে কেন্দ্র করে তাঁর নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে সংবাদকর্মীদের ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে।

দুই পক্ষের বিপরীতমুখী বক্তব্য: লিফটে ওঠার সময়কার পরিস্থিতি নিয়ে চিত্রনায়িকা পরীমনি অভিযোগ করেছিলেন যে, সাংবাদিক রবিউল হোসাইন তাঁর হাত ধরেছেন এবং মোবাইল দিয়ে তাঁর চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছেন।

তবে এই অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে উড়িয়ে দিয়েছেন সমকালের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার রবিউল হোসাইন। প্রথম আলোকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “উনি বলছেন স্পর্শ করার কথা, কিন্তু আমার বাঁ হাতে মোবাইল ও ট্রাইপড ছিল। আমার ডান হাত পুরোপুরি রিজার্ভ (জন্মগতভাবে ডান হাত ছোট ও স্বাভাবিক কাজ করার উপযোগী নয়), এই হাত দিয়ে তো স্পর্শ করার কোনো ধরনের সুযোগ নাই—এটা আমাকে সামনাসামনি যারা দেখেছেন, তারাই জানেন।”

রবিউল আরও জানান, তিনি লিফটে ওঠেননি, বরং এক কোনায় দাঁড়িয়ে ভিডিও ধারণ করছিলেন। পরীমনি নিজেই তাঁর চলার পথে হাত বাড়িয়ে তাঁর মুঠোফোনটি টান দিয়ে কেড়ে নিয়েছিলেন এবং তাঁর সঙ্গে থাকা নিরাপত্তাকর্মীরা ট্রাইপড ভেঙে ফেলেন।

আদালত প্রাঙ্গণে উত্তেজনা ও হুমকি: আদালত থেকে ৫০০ টাকার মুচলেকায় জামিন পেয়ে পরীমনি বের হওয়ার সময় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সাংবাদিকদের অভিযোগ, এ সময় পরীমনির নিরাপত্তারক্ষীরা তাঁদের ও সাধারণ বিচারপ্রার্থীদের ওপর চড়াও হন। রবিউল হোসাইন জানান, পরীমনি নিজে তাঁর দিকে এগিয়ে এসে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং তাঁকে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে যান।

এই অনভিপ্রেত ধাক্কাধাক্কির ঘটনায় শুধু সাংবাদিকেরাই নন, সুজন চন্দ্র মণি দাস নামের এক সাধারণ বিচারপ্রার্থীর মাথা ফেটে রক্ত বের হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়া জাগো নিউজের আশিকুজ্জামান ও আব্দুল্লাহ আল কাউছার, আগামীর সময়ের সিয়াম হোসেন এবং টাইমস টুডের শাহ রিয়াজসহ বেশ কয়েকজন সাংবাদিক আহত হন এবং তাঁদের কেউ কেউ হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।

ডিজিটাল রিপোর্টার্স ফোরামের তীব্র নিন্দা: আদালত প্রাঙ্গণে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলা, হেনস্তা এবং সাধারণ বিচারপ্রার্থীদের আহত করার এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ডিজিটাল রিপোর্টার্স ফোরাম (ডিআরএফ)। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটি জানায়, আদালতের মতো একটি সংবেদনশীল স্থানে সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ ও গালিগালাজ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। অবিলম্বে পরীমনি ও তাঁর নিরাপত্তাকর্মীদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জোরালো দাবি জানিয়েছে ডিআরএফ।