০৮ নভেম্বর ২০২৬, রবিবার, ১২:৩৪:৫৫ পূর্বাহ্ন


শুটিং সেটে মারধরের জের: তানজিন তিশা ও সামিয়া অথৈর সদস্যপদ অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করল অভিনয়শিল্পী সংঘ!
বিনোদন ডেস্ক | ট্রেন্ডনিউজবিডি
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-১১-০৭ ১৮:৩৬:২২
শুটিং সেটে মারধরের জের: তানজিন তিশা ও সামিয়া অথৈর সদস্যপদ অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করল অভিনয়শিল্পী সংঘ! তানজিন তিশা ও সামিয়া অথৈ I ছবি: সংগৃহীত


মীমাংসার প্রস্তাব না মানায় এবং কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব না দেওয়ায় কঠোর সিদ্ধান্ত নিল সংগঠনটি

        শুটিং সেটে মারধরের অভিযোগ ও পরবর্তীতে সৃষ্ট পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের জেরে দুই জনপ্রিয় অভিনয়শিল্পী তানজিন তিশা এবং সামিয়া আক্তার অথৈ—দুজনেরই সদস্যপদ অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করেছে ‘অভিনয়শিল্পী সংঘ, বাংলাদেশ’। এর আগে দুই অভিনেত্রীর মধ্যকার এই বিরোধ মীমাংসা করার জন্য সংগঠনের পক্ষ থেকে একাধিকবার উদ্যোগ নেওয়া হলেও তাঁদের অসহযোগিতার কারণে তা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক রাশেদ মামুন অপু।

সংগঠন সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ অক্টোবর তানজিন তিশা ও সামিয়া অথৈ বরাবর পাঠানো চিঠিতে উল্লেখ করা হয় যে, এর আগে গত ৭ জুলাই তাঁদের ‘সদস্যপদ স্থগিতকরণ’ সংক্রান্ত কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নির্দিষ্ট সময় পার হলেও দুজনের কেউই ওই নোটিশের কোনো লিখিত জবাব সংগঠনের কার্যালয়ে জমা দেননি। পরবর্তীতে বিষয়গুলো নিয়ে সালিস ও বিবাদ মীমাংসাকরণ বৈঠকে দীর্ঘ আলোচনা হয় এবং কার্যনির্বাহী পরিষদের নিয়মিত সভায় সর্বসম্মতিক্রমে তাঁদের সদস্যপদ অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। চিঠিগুলোতে স্বাক্ষর করেছেন সাধারণ সম্পাদক রাশেদ মামুন অপু ও সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুদ রানা মিঠু।

‘একাধিকবার বসেও বিরোধ মেটানো যায়নি’—রাশেদ মামুন অপু

এ বিষয়ে অভিনয়শিল্পী সংঘ বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ মামুন অপু প্রথম আলোকে বলেন, “অভিনয়শিল্পী সংঘের পারস্পরিক দ্বন্দ্ব নিরসনের জন্য একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম সালিস কমিটি রয়েছে। আমরা চেয়েছিলাম তাঁরা নিজেদের মধ্যকার ভুল–বোঝাবুঝি দূর করে একটি সমঝোতায় পৌঁছান। ঘটনার পর থেকেই আমরা দুই শিল্পীর সঙ্গে একাধিকবার বসেছি, তাঁদের বক্তব্য শুনেছি এবং বিরোধ মীমাংসার চেষ্টা করেছি।”

তিনি আরও জানান, সালিস কমিটির পক্ষ থেকে দুটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল—যার একটি ছিল ক্ষমা চেয়ে বিবৃতি দেওয়া এবং অপরটি ভিডিও বার্তা পাঠানো। কিন্তু দুই অভিনেত্রীর কেউই সেই সিদ্ধান্ত মানেননি। এমনকি পরপর দুটি চিঠি পাঠানো সত্ত্বেও তাঁরা কোনো সদুত্তর দেননি এবং ফোন করেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে বাধ্য হয়ে সালিস কমিটি ইসি কমিটির কাছে সদস্যপদ বাতিলের সুপারিশ করে, যা পরবর্তী সময়ে কার্যনির্বাহী সভায় সর্বসম্মতভাবে গৃহীত হয়।

যেভাবে সূত্রপাত হয়েছিল এই বিরোধের

ঘটনার সূত্রপাত ঘটেছিল গত ৩ মার্চ। মানিকগঞ্জে পরিচালক রাফাত মজুমদারের একটি নাটকের শুটিং চলাকালীন তানজিন তিশা ও সামিয়া অথৈর মধ্যে এই জটিলতা তৈরি হয়। ওই দিন সন্ধ্যায় ফেসবুকে লাইভে এসে তিশার বিরুদ্ধে শুটিং সেটে মারধর ও অপদস্থ করার গুরুতর অভিযোগ তোলেন সামিয়া।

সামিয়ার দাবি ছিল, নাটকের একটি দৃশ্যে তিশাকে আলতো করে চড় মারার কথা থাকলেও পরিচালকের নির্দেশনা অনুযায়ী সেটি করার পর তিশা তাঁকে একাধিকবার সজোরে চড় মারেন। এতে তাঁর চোখ ও গাল ফুলে যায় এবং কথা বলতেও সমস্যা হয়। পাশাপাশি তিশার সঙ্গে তাঁর আগে থেকেই ব্যক্তিগত বিরোধ ছিল বলেও দাবি করেন তিনি।

তবে সামিয়ার এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন তানজিন তিশা। তাঁর দাবি ছিল, শুটিং সেটে যা ঘটেছিল, তার পুরোটাই ছিল চিত্রনাট্য ও চরিত্রের প্রয়োজনে। নাটকটিতে তিনি বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন এক কিশোরীর চরিত্রে অভিনয় করছেন, যার আচরণে অন্যকে আঘাত করার দৃশ্য রয়েছে। তাই ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে নয়, বরং পেশাদারত্বের জায়গা থেকেই তিনি দৃশ্যটি করেছিলেন। নাটকের পরিচালক রাফাত মজুমদারও ঘটনাটিকে শুটিংয়ের একটি অনভিপ্রেত ভুল–বোঝাবুঝি বলে উল্লেখ করেছিলেন।

সাংগঠনিক বিধিভঙ্গের অভিযোগ ও পরবর্তী পদক্ষেপ

ঘটনার পরপরই দুই অভিনেত্রীর পাল্টাপাল্টি বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিবৃতি দিয়ে সতর্ক করেছিল অভিনয়শিল্পী সংঘ। সংগঠনটি জানিয়েছিল, অভ্যন্তরীণ পেশাগত বিরোধ এভাবে সোশ্যাল মিডিয়ায় বা গণমাধ্যমে উপস্থাপন করা আচরণবিধির সম্পূর্ণ পরিপন্থী। প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তা সমাধান না করায় এবং পরবর্তীতে কারণ দর্শানোর নোটিশের কোনো জবাব না দেওয়ায় অবশেষে তাঁদের সদস্যপদ স্থগিতের মতো কঠোর সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হলো সংগঠনটি।

এদিকে, সদস্যপদ স্থগিতের এই বড় সিদ্ধান্তের পর এখন পর্যন্ত তানজিন তিশা কিংবা সামিয়া অথৈর পক্ষ থেকে কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তাঁরা এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে পরবর্তীতে কোনো আপিল করবেন কি না, সে বিষয়েও এখনো কিছু জানা যায়নি।