১২ অক্টোবর ২০২৬, সোমবার, ১১:২০:০৮ পূর্বাহ্ন


ঈদের দিন সারাদেশে ২ দফায় কালবৈশাখীর পূর্বাভাস
অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-০৩-১৯ ১৪:২২:৪৩
ঈদের দিন সারাদেশে ২ দফায় কালবৈশাখীর পূর্বাভাস ছবি: সংগৃহীত


বাংলাদেশজুড়ে পবিত্র ঈদুল ফিতরের আনন্দের আবহ থাকলেও এবারের ঈদ উদযাপনে বাগড়া দিতে পারে শক্তিশালী কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টি। আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি ঈদের চূড়ান্ত তারিখ ঘোষণা করার কথা থাকলেও আবহাওয়া ও জলবায়ু গবেষকরা ধারণা করছেন, আগামী শনিবার (২১ মার্চ) বাংলাদেশে ঈদুল ফিতর উদযাপিত হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। তবে একই দিনে সারা দেশে দুই দফায় শক্তিশালী কালবৈশাখী ঝড়ের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

আবহাওয়া ও জলবায়ু গবেষক মোস্তফা কামাল পলাশের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ঈদের দিন শনিবার দেশের ওপর দিয়ে সকাল এবং সন্ধ্যা—এই দুই সময়ে তীব্র বজ্রপাত ও শিলাবৃষ্টিসহ শক্তিশালী কালবৈশাখী ঝড় বয়ে যেতে পারে। এই ঝড়ের গতিপথ বিশ্লেষণ করে তিনি জানান, ঈদের পূর্ববর্তী দিন মধ্যরাতের পর ভারতের বিহার ও পশ্চিমবঙ্গ হয়ে ঝড়টি বাংলাদেশের রাজশাহী ও রংপুর বিভাগে প্রবেশ করবে। পরবর্তীতে এটি উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে ময়মনসিংহ, ঢাকা, সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগের ওপর দিয়ে দেশ ত্যাগ করতে পারে।

বিশেষ করে রাজধানী ঢাকার বাসিন্দাদের জন্য উদ্বেগের খবর হলো, ঈদের দিন সকাল ৭টা থেকে ১০টার মধ্যে শহরের ওপর দিয়ে ঝড়টি অতিক্রম করার বড় ধরনের আশঙ্কা রয়েছে। গবেষকের তথ্যমতে, সাধারণত এ ধরনের ঝড় রাত ১২টার পর থেকে সকালের মধ্যে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল এবং দুপুরের মধ্যে দক্ষিণাঞ্চল ও পূর্বাঞ্চল অতিক্রম করে। তবে পরিস্থিতির পরিবর্তনের কারণে সঠিক সময় নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা থাকলেও ঈদের আগের দিন এবং পরের দিনও সারা দেশে বৈরী আবহাওয়া বিরাজ করতে পারে।

অন্যদিকে, সরকারি সংস্থা আবহাওয়া অধিদপ্তরও আগামী পাঁচ দিনের জন্য বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস জারি করেছে। অধিদপ্তরের তথ্যমতে, শুক্রবার সকাল থেকেই দেশের আটটি বিভাগের বিভিন্ন স্থানে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি হতে পারে। একই সাথে কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে। ঝড়ের প্রভাবে শুক্রবার সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমলেও রবিবার থেকে পুনরায় তা বাড়তে শুরু করতে পারে।

ঈদের নামাজ ও উৎসবের পরিকল্পনা করার ক্ষেত্রে এই দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার বিষয়টি মাথায় রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। খোলা মাঠের পরিবর্তে বিকল্প স্থানে ঈদের জামাতের প্রস্তুতি রাখা এবং ঝড়ের সময় বজ্রপাত থেকে নিরাপদ থাকতে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি হয়ে পড়েছে।