১২ অক্টোবর ২০২৬, সোমবার, ০৫:৩১:২৭ পূর্বাহ্ন


মোদির অভ্যর্থনা ও রাহুলের সঙ্গে কফির আড্ডা আলোচনায় মুখ্যমন্ত্রী বিজয়
জাতীয় ডেস্ক | ট্রেন্ডনিউজবিডি
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০২৬-১০-১১ ১৬:০৯:০৩
মোদির অভ্যর্থনা ও রাহুলের সঙ্গে কফির আড্ডা আলোচনায় মুখ্যমন্ত্রী বিজয় ছবি: সংগৃহীত


তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী সি জোসেফ বিজয়ের একদিনের ব্যবধানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির অভ্যর্থনা এবং রাহুল গান্ধীর সঙ্গে কফি আড্ডা; রাজনৈতিক মহলে তুমুল চর্চা

       ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে বিমানবন্দরে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো থেকে শুরু করে দেশটির লোকসভার বিরোধী দলের নেতা রাহুল গান্ধীর সঙ্গে ঘরোয়া পরিবেশে কফির আড্ডা—মাত্র এক দিনের ব্যবধানে দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন মেরুর রাজনৈতিক ঘটনায় দক্ষিণ ভারতের রাজ্য তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী সি জোসেফ বিজয় এখন জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছেন। একদিকে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি চেন্নাই সফরে দাপ্তরিক সৌজন্য বজায় রাখা, অন্যদিকে বিরোধী শিবিরের শীর্ষ নেতার সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক ও ক্যাফেতে সময় কাটানো—সব মিলিয়ে বিজয়ের এই বহুমাত্রিক রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।

রোববার (১১ অক্টোবর) চেন্নাই বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানান মুখ্যমন্ত্রী সি জোসেফ বিজয়। তামিলনাড়ু তথ্য ও জনসংযোগ বিভাগের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এএনআই এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। চেন্নাই সফরে প্রধানমন্ত্রী মোদির বিভিন্ন ঠাসা কর্মসূচি রয়েছে। যার মধ্যে পোরুর বাইপাস স্টেশন থেকে পুনামাল্লি বাইপাস স্টেশন পর্যন্ত চেন্নাই মেট্রোতে চড়ে ভ্রমণ করা এবং পুনরায় ফিরে যাওয়ার কর্মসূচি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

এর ঠিক একদিন আগে অর্থাৎ শনিবার (১০ অক্টোবর) ভারতের লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর সঙ্গে একান্তে সময় কাটাতে দেখা যায় মুখ্যমন্ত্রী বিজয়কে। সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, চেন্নাইয়ের উপকণ্ঠে নীলানকারাইয়ে বিজয়ের নিজ বাসভবনে আচমকা হাজির হন রাহুল গান্ধী। সেখানে দুই নেতার মধ্যে প্রায় এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে তামিলনাড়ুর রাজ্য রাজনীতি ও জাতীয় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সমীকরণ নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।

বৈঠক শেষে কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনী ছাপিয়ে দুজনে মিলে চলে যান স্থানীয় একটি জনপ্রিয় ক্যাফেতে। সেখানে কফি, তিরামিসু কেক ও কুকিজের সঙ্গে বেশ খোশগল্পে মেতে ওঠেন তারা। দেশের অন্যতম প্রধান বিরোধী নেতা এবং দক্ষিণের প্রভাবশালী মুখ্যমন্ত্রীকে একসঙ্গে এভাবে সাধারণ একটি ক্যাফেতে কফি পান করতে দেখে উৎসুক সাধারণ মানুষ ভিড় জমান। অনেকেই তাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং সেলফিও তোলেন। মূলত তরুণ সমাজ ও শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করার বিশেষ কর্মসূচি ‘ছাত্রোঁ কি গূঞ্জ’-এ অংশ নিতেই চেন্নাইয়ে অবস্থান করছেন রাহুল।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সম্প্রতি তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনের পর সরকার গঠনকে কেন্দ্র করে রাজ্যটিতে এক নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হয়েছিল। নির্বাচনে কোনো দল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় ডিএমকে-এর সঙ্গে পুরোনো জোট ভেঙে কংগ্রেস নতুন রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে বিজয়ের দল ‘তামিলাগা ভেট্রি কাজাঘম’ (টিভিকে)-কে সমর্থন দেয় এবং সেই সমর্থনে সরকার গঠিত হয়। ফলে রাহুল গান্ধীর সঙ্গে এই ঘনিষ্ঠ বৈঠক বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।

একই সঙ্গে দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে বিমানবন্দরে যথাযথ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় স্বাগত জানিয়ে বিজয়ের এই ‘সবার সঙ্গে সুসম্পর্ক’ বজায় রাখার কৌশল তাঁর রাজনৈতিক পরিপক্বতাকেই তুলে ধরে। আপাতদৃষ্টিতে বিপরীত মেরুর দুই শীর্ষ নেতার সঙ্গে বিজয়ের এই দুই ধরনের উপস্থিতি ভারতীয় রাজনীতির নতুন গতিপ্রকৃতি ও তাঁর কূটনৈতিক বিচক্ষণতা নিয়ে নতুন করে আলোচনার খোরাক জুগিয়েছে।