অভিনয়ের গণ্ডি পেরিয়ে মিস ইউনিভার্স বাংলাদেশ-এর মুকুট জয়; পুয়ের্তো রিকোর মূলমঞ্চে লড়ার প্রস্তুতি!
ছোটপর্দার পরিচিত মুখ সামিরা খান মাহি। অভিনয়ের মাধ্যমে যিনি জায়গা করে নিয়েছেন দর্শকের মনে, এবার তার সামনে খুলে গেল আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেকে ও দেশকে তুলে ধরার নতুন দরজা। ‘মিস ইউনিভার্স বাংলাদেশ ২০২৬’-এর মুকুট জিতে এখন বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন এই অভিনেত্রী। ফলে স্বাভাবিকভাবেই সবার চোখ এখন মাহির দিকে।
৭ নভেম্বর রাজধানীর পূর্বাচলে ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় অনুষ্ঠিত হয় ‘মিস ইউনিভার্স বাংলাদেশ’-এর আয়োজন। সেখানে বিজয়ী হিসেবে ঘোষণা করা হয় সামিরা খান মাহির নাম। গত আসরের বিজয়ী তানজিয়া জামান মিথিলা তাঁর মাথায় পরিয়ে দেন বিজয়ের মুকুট। অভিনয়জগতের পরিচিত মুখ থেকে আন্তর্জাতিক সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার মঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধি— মাহির ক্যারিয়ারে এটি নিঃসন্দেহে নতুন এক অধ্যায়।
এক সাক্ষাৎকারে মাহি জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পেয়ে তিনি একই সঙ্গে উচ্ছ্বসিত ও কিছুটা নার্ভাস। তার ভাষায়, দেশকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে তুলে ধরা সহজ কাজ নয়। সিদ্ধান্তটি চূড়ান্ত হয়েছে খুব অল্প সময়ের মধ্যে। তাই প্রস্তুতির জন্য সময়ও পেয়েছেন কম। তবে সেই সীমাবদ্ধতাকে পেছনে ফেলে আত্মবিশ্বাস নিয়েই এগিয়ে যেতে চান মাহি।
অভিনয় থেকে বিশ্বমঞ্চে
সামিরা খান মাহিকে দর্শক আগে থেকেই চেনেন ছোটপর্দার অভিনয়শিল্পী হিসেবে। নাটকে তার উপস্থিতি, সাবলীল অভিনয় এবং পর্দায় স্বাভাবিক ভঙ্গি তাকে পরিচিতি দিয়েছে। এবার সেই পরিচিতির বাইরে গিয়ে নিজেকে নতুনভাবে উপস্থাপনের সুযোগ পেয়েছেন তিনি।
সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার আন্তর্জাতিক মঞ্চে কেবল বাহ্যিক সৌন্দর্য নয়, ব্যক্তিত্ব, আত্মবিশ্বাস, যোগাযোগের দক্ষতা এবং নিজের দেশ ও সংস্কৃতিকে তুলে ধরার সক্ষমতাও গুরুত্বপূর্ণ। মাহির জন্য তাই এই যাত্রা শুধুই একটি মুকুটের লড়াই নয়; বরং অভিনয়শিল্পী হিসেবে অর্জিত অভিজ্ঞতার বাইরে নতুন এক পরিচয় নির্মাণেরও সুযোগ।
বিজয়ী হওয়ার পর মাহি জানিয়েছেন, তাঁর বাবা-মা তাঁকে বিশ্বজয়ের স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে যেতে উৎসাহ দিয়েছেন। বাংলাদেশের মুখ উজ্জ্বল করে দেশে ফেরার প্রত্যাশাও জানিয়েছেন তিনি। এই প্রত্যাশার সঙ্গে এখন যুক্ত হয়েছে অসংখ্য দর্শকের শুভকামনা।
পাশে আছেন মিথিলা
মাহির সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হলো প্রস্তুতির জন্য স্বল্প সময়। তবে এই যাত্রায় অভিজ্ঞ একজনকে পাশে পাচ্ছেন তিনি, নাম তার তানজিয়া জামান মিথিলা।
২০২৫ সালের আন্তর্জাতিক ‘মিস ইউনিভার্স’ আসরে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন মিথিলা। সেখানে ১২২টি দেশের প্রতিযোগীর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সেরা ৩০-এ জায়গা করে নেন তিনি। আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতাটির ইতিহাসে সেটিই ছিল বাংলাদেশের প্রথম এমন সাফল্য। পাশাপাশি পিপলস চয়েস বিভাগেও উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছিলেন মিথিলা।
সেই অভিজ্ঞতা এবার কাজে লাগাতে চান মাহি। তিনি জানিয়েছেন, মিথিলা তার কাছে বড় বোন ও বন্ধুর মতো। পোশাক, কস্টিউম, স্টাইলিং এবং প্রস্তুতির নানা বিষয়ে সহযোগিতা করছেন মিথিলা। নতুন এই অভিজ্ঞতার পথে মিথিলার পরামর্শ ও সাহচর্যকে নিজের বড় শক্তি হিসেবে দেখছেন মাহি।
আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার প্রস্তুতিতে পোশাক ও উপস্থাপনার পাশাপাশি মানসিক প্রস্তুতি, সময় ব্যবস্থাপনা এবং নিজের বক্তব্য স্পষ্টভাবে তুলে ধরার বিষয়গুলোও গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে অভিজ্ঞ কারও সহযোগিতা মাহির জন্য বাড়তি সুবিধা হতে পারে।
এবার প্রত্যাশার চাপও কম নয়
বাংলাদেশের হয়ে আন্তর্জাতিক সৌন্দর্য প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়ার ইতিহাস একেবারে নতুন নয়। ২০১৯ সালে শিরিন শিলা, ২০২৪ সালে আনিকা আলম এবং ২০২৫ সালে তানজিয়া জামান মিথিলা ‘মিস ইউনিভার্স বাংলাদেশ’-এর প্রতিনিধি নির্বাচিত হয়েছিলেন। এবার সেই ধারাবাহিকতায় যুক্ত হলেন মাহি।
বিশেষ করে মিথিলার আন্তর্জাতিক সাফল্যের পর এবারের প্রতিনিধিকে ঘিরে প্রত্যাশা আরও বেড়েছে। তবে প্রত্যেক প্রতিযোগীর অভিজ্ঞতা, প্রস্তুতি ও শক্তির জায়গা আলাদা। তাই আগের সাফল্যের সঙ্গে মাহির যাত্রাকে সরাসরি তুলনা না করে তাঁর নিজস্ব সক্ষমতা ও উপস্থাপনাকে গুরুত্ব দেওয়াই হবে যুক্তিসংগত।
মাহির সামনে এখন নিজেকে প্রমাণ করার সুযোগ। অভিনয়ের অভিজ্ঞতা তাকে ক্যামেরার সামনে স্বচ্ছন্দ থাকতে সাহায্য করতে পারে। কিন্তু আন্তর্জাতিক মঞ্চের প্রতিযোগিতা ভিন্ন ধরনের প্রস্তুতি দাবি করে। সেখানে নিজের দেশের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও পরিচয়কে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে তুলে ধরাও গুরুত্বপূর্ণ।
অপেক্ষা এখন আন্তর্জাতিক মঞ্চের
বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পেয়ে মাহি যে উচ্ছ্বসিত, তা তার কথাতেই স্পষ্ট। তবে এই যাত্রার প্রকৃত মূল্যায়ন হবে আন্তর্জাতিক মঞ্চে তার অংশগ্রহণ, উপস্থাপনা এবং পারফরম্যান্সের মধ্য দিয়ে।
মাহির সামনে সময় কম, প্রত্যাশা অনেক। সঙ্গে রয়েছে নতুন অভিজ্ঞতার রোমাঞ্চ এবং দেশের মানুষের শুভকামনা। তিনি কত দূর এগোতে পারবেন, তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে প্রতিযোগিতার ফলাফল পর্যন্ত।
একজন অভিনেত্রীর পরিচিত গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হয়ে ওঠার এই যাত্রা তাই কেবল মাহির ব্যক্তিগত অর্জনের গল্প নয়। এটি দেশের বিনোদনজগতের একজন পরিচিত মুখের নতুন সম্ভাবনার গল্পও।
এখন দেখার বিষয়, আত্মবিশ্বাস, প্রস্তুতি ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে কতটা উজ্জ্বলভাবে বাংলাদেশকে তুলে ধরতে পারেন সামিরা খান মাহি।